বাজারে এসেই উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রির ধান্দা বন্ধে বিএসই’র পদক্ষেপ

0
346

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েই বড় অংকের বোনাস ডিভিডেন্ড দিয়ে শেয়ারদর বাড়ানো হয়। এরপর চড়া দরে উদ্যোক্তারা বোনাস শেয়ার বিক্রি করার সুযোগ নেন। এবার সেই সুযোগ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

রোববার আইপিও অনুমোদন পাওয়া বিডি থাই ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডকে শর্ত দেয়া হয়েছে, শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) এক টাকা বা এর বেশি না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা কোনো ডিভিডেন্ড নিতে পারবেন না।

বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় ৬৩ পয়সা। বিডি ফুডকে শেয়ারবাজার থেকে ১৫ কোটি টাকা তোলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এজন্য ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের ১ কোটি ৫০ লাখ শেয়ার ছাড়বে কোম্পানিটি। উত্তোলন করা টাকা যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম কেনা, দালানকোঠা নির্মান, ভূমি উন্নয়ন এবং প্রাথমিক গণ প্রস্তাব খাতে ব্যয় করবে বিডি ফুড।

এর আগে শেয়ারবাজারের অনেক কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার পরের বছরই বড় অংকের ডিভিডেন্ড দিয়ে বিনিয়োগাকরীদের আকৃষ্ট করেছে। ডিভিডেন্ডের মধ্যে বোনাস ডিভিডেন্ডর পরিমাণই বেশি ছিল। বড় ডিভডেন্ড দেওয়ার শেয়ারটির দর তর তর করে বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে শেয়ারটির দর যখন তুঙ্গে অবস্থান নেয়, তখন উদ্যোক্তারা তাদের বোনাস শেয়ার চড়া দরে বিক্রি করার সুযোগ নেন। বিএসইসির নতুন এই সিদ্ধান্তে সেই পাঁয়তারা বন্ধ হচ্ছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের।

বিডি ফুডের আইপিও অনুমোদন শর্তে বলা হয়েছে, বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৬৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কোম্পানির যেসব উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে পরিশোধিত মূলধনের শেয়ার আছে তারা আগামী তিন বছর কোনো শেয়ার কেনাবেচা করতে পারবেন না। যেদিন থেকে কোম্পানিটি শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু করবে সেদিন থেকে সময় গণনা করা হবে।

এছাড়া, কোম্পানির উদ্যোক্তারা শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) এক টাকা বা এর বেশি না হওয়া পর্যন্ত কোনো ডিভিডেন্ড নিতে পারবেন না এবং কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে পারবেন না। অর্থাৎ কোম্পানির উদ্যোক্তারা বোনাস শেয়ার নিতে পারবেন না। এর মাধ্যমে শেয়ারবাজারে এসে বড় অঙ্কের বোনাস ডিভিডেন্ড দিয়ে উদ্যোক্তাদের বোনাস ডিভিডেন্ড বিক্রির সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here