আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মন্দ ঋণ প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা

0
35

জুন কোয়ার্টার শেষ ব্যাংক বহির্ভুত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (এনবিএফআইএস) খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা। সর্ব শেষ প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) এর পরিমাণ ছিলো  ১৪ হাজার ২৩২ কোটি টাকা হয়েছে। তবে ঋণ পুনঃ তফসিলের ক্ষমতা আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দেওয়ার ফলে আগামীতে এর পরিমাণ আরও কমবে বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা মনে করেন বারবার এই সুযোগ দিলে এর পরিমাণ আরও বাড়বে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, কয়েকটি কারণে আর্থিক খাতে মন্দ ঋণের পরিমাণ বেড়েছে। এর মধ্যে অন্যতম কারণ হলো-করোনা,বিশ্বব্যাপী ডলার সংকট।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ কায়সার হামিদ বলেন, করোনার কারণে বিলম্ব করে গ্রাহকরা ঋণ পরিশোধ করার ফলে এই অবস্থা হয়েছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী ডলার সংকটের কারণে অনেক গ্র দেখা

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে, সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে বিআইএফসি। কোম্পানিটি জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ৭৮৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৯৬ দশমিক ৭৭ শতাংশ বা ৭৫৯ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ফারইস্ট ফাইন্যান্স। জুন পর্যন্ত কোম্পানিটি ঋণ বিতরণ করেছে  ৯৪৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৯৩ দশমিক ২১ শতাংশ বা ৮৮১ কোটি টাকা। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে, ফার্স্ট ফাইন্যান্স। এর মন্দ ঋণের পরিমাণ ৮৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

এর পর যথাক্রম রয়েছে, ফাস ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে  ১ হাজার ৯২৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৮৯ দশমিক ১৬ শতাংশ বা ১৭২০ কোটি টাকা।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ৪ হাজার ১১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৭৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ বা ৩ হাজার ১৫১ কোটি টাকা।

প্রিমিয়ার লিজিং জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ১ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৬৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ বা ৯১৯ কোটি টাকা।

উত্তরা ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ২ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৫৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ বা ১ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা।

ন্যাশনাল ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ৫৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৪৬ দশমিক ১৯ শতাংশ বা ২৬৭ কোটি টাকা।

আইআইডিএফসি জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে  ১২৮০ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৪১ দশমিক ৯৪ শতাংশ বা ৫৩৬ কোটি টাকা।

সিভিসি ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ৪২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৩৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ বা ১৬১ টাকা।

ইউনিয়ন ক্যাপিটাল জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ১ হাজার ১৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৩৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ বা ৩৯৯ কোটি টাকা।

আভিবা ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ২ হাজার ৭১০ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৩১ দশমিক ৫১ শতাংশ বা ৮৫৩ টাকা।

হজ্জ ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে  ৬৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৩০ দশমিক ০৮ শতাংশ বা ২০০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে আগ্রনী এসএমই জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ৩১৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ২ দশমিক ০৫ শতাংশ বা ৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ১ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৬ দশমিক ০১ শতাংশ বা ৮৩ কোটি টাকা।

বিআইএফএফএল জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ১ হাজার ৮৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ বা ১৭৯ টাকা।

বে লিজিং জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ৯৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ২৫ দশমিক ৬১ শতাংশ বা ২৪৭ টাকা।

ডিবিএইচ জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ৪ হাজার ৪৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ দশমিক ৮১ শতাংশ বা ৩৫ কোটি টাকা।

ফার্স্ট ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে  ৯১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৮৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ বা ৮২০ কোটি টাকা।

জিএসপি ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে  ৭১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ২১ দশমিক ১৭ শতাংশ বা ১৫০ কোটি টাকা।

আইডিএলসি ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ৯ হাজার ৭৬৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ বা ৩৪০ কোটি টাকা।

ইডকল জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে  ৬ হাজার ৯৯৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ১৩ দশমিক ১২ শতাংশ বা ৯১৭ কোটি টাকা।

আইপিডিসি ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ৭ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৪ দশমিক ১০ শতাংশ বা ২৯২ কোটি টাকা।

ইসলামিক ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে  ১২২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৬ দশমিক ২৯ শতাংশ বা ৭৬ কোটি টাকা।

লংকাবাংলা ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে  ৬ হাজার ১৬১ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৭ দশমিক ০৭ শতাংশ বা ৪৩৫ কোটি টাকা।

লংকান অ্যালায়েন্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ৩৫৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ দশমিক ১৬ শতাংশ বা ০.৫৬ কোটি টাকা।

মেরিডিয়ান ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ৩৮৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ১৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ বা ৭১ কোটি টাকা।

মাইডাস ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ৯৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ১৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ বা ১৮৬ কোটি টাকা।

ন্যাশনাল হাউজিং জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ১ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৭ দশমিক ৩৬ শতাংশ বা ১০৬ কোটি টাকা।

ফনিক্স ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ২ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ২৩ দশমিক ৪২ শতাংশ বা ৬৩৭ কোটি টাকা।

প্রাইম ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ৭১৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ১৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ বা ১৩৮ কোটি টাকা।

সাবিনকো জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ৩২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৭ দশমিক ৮১ শতাংশ বা ২৫ কোটি টাকা।

ইউবিআইওও জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ১৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ বা ১১ কোটি টাকা।

ইউনাইটেড ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ বা ৭০ কোটি টাকা।

স্ট্র্যাটেজিক ফাইন্যান্স জুন পর্যন্ত ঋণ বিতরণ করেছে ১১৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে মন্দ ঋণের পরিমাণ ০.০ শতাংশ বা ০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিমালা:

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথমবার পুনঃ তফসিলে মোট বকেয়ার ৪ শতাংশ অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ কিস্তির কমপক্ষে ৭ শতাংশের মধ্যে যা কম, তা জমা দিতে হবে। আগে মোট বকেয়ার ১০ শতাংশ বা মেয়াদোত্তীর্ণ কিস্তির ১৫ শতাংশের মধ্যে যা কম, তা নগদ জমা দিতে হতো। ঋণের নতুন মেয়াদ হবে ছয় বছর।

দ্বিতীয়বার পুনঃ তফসিলে মোট বকেয়ার ৫ শতাংশ অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ কিস্তির কমপক্ষে ৮ শতাংশের মধ্যে যা কম, তা পরিশোধ করতে হবে। আগে মোট বকেয়ার ২০ শতাংশ বা মেয়াদোত্তীর্ণ কিস্তির ৩০ শতাংশের মধ্যে যেটি কম, সে অনুযায়ী পরিশোধের সুযোগ ছিল। এ ক্ষেত্রে ঋণের মেয়াদ পাঁচ বছর।

তৃতীয়বার পুনঃ তফসিলে মোট বকেয়ার ৬ শতাংশ অথবা মেয়াদোত্তীর্ণ কিস্তির অন্তত ৯ শতাংশের মধ্যে যা কম, তা জমা দিতে হবে। আগে মোট বকেয়ার ৩০ শতাংশ বা মেয়াদোত্তীর্ণ কিস্তির ৫০ শতাংশের মধ্যে যা কম, তা জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা ছিল। এবারে ঋণের মেয়াদ করা হয় পাঁচ বছর।

তবে নীতিমালায় বলা হয়েছে, নগদ আদায় ছাড়া ঋণ পুনঃ তফসিল বা পুনর্গঠন করা যাবে না। গ্রাহকের অস্তিত্ব, ঋণের যথাযথ ব্যবহার ও জামানত যাচাই করতে হবে। পুনঃ তফসিল করতে তহবিল খরচ অবশ্যই আদায় করতে হবে, এরপর সুদ মওকুফ করা যাবে। কিন্তু জালিয়াতি হয়েছে, এমন কোনো ঋণ পুনঃ তফসিল করা যাবে না।

ট্রেডার বাংলাদেশ, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here