মাত্র ৭% সুদে অগ্রণী ব্যাংকের লোন!

0
826

ব্যাংকঋণের সুদহার গত বছরের এপ্রিল থেকে কমিয়ে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে ব্যাংকগুলো সুদহারের এই নির্দেশনা অনুসরণ করছে। কোনো কোনো ব্যাংক সুদহার আরও কমিয়েছে। প্রায় ১০ মাস পর এখন রাষ্ট্রমালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দেওয়ার জন্য গ্রাহক খুঁজছে। অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহক নন, এমন ভালো গ্রাহকেরা কম সুদে এই ঋণসুবিধা পাবেন।

চলতি মূলধন এই ঋণের মেয়াদ হবে ছয় মাস—এর মধ্যে পুরো টাকা শোধ করতে হবে। চলতি মূলধনের সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ পর্যন্ত নতুন ঋণ দেবে অগ্রণী ব্যাংক। ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নতুন এই ঋণ প্রকল্প চালু করেছে ব্যাংকটি; যা পাওয়া যাবে ব্যাংকের সব শাখায়।

ব্যাংকটি চাইছে, দেশের ভালো শিল্পগোষ্ঠীগুলো এই সুবিধা নিয়ে ব্যাংকটির গ্রাহক হোক। এর মাধ্যমে ব্যাংকটি দেশের মাঝারি ও ছোট আকারের ভালো প্রতিষ্ঠানগুলোকে গ্রাহক হিসেবে টানতে চায়। এ জন্য কারা এই ঋণ পাবে, তার কয়েকটি শর্তও জুড়ে দিয়েছে।

অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রচুর টাকা অলস পড়ে আছে। তাই ৭ শতাংশ সুদে ঋণ দিলেও কোনো সমস্যা নেই। এ জন্য ভালো গ্রাহক ধরতে আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছি। একজন ভালো গ্রাহক ব্যাংকের ভাবমূর্তির জন্য বড় সম্পদ বলে আমরা মনে করি।’

জানা গেছে, গত এপ্রিল থেকে সুদহার নির্দিষ্ট করে দেওয়ার সময় করোনার প্রকোপও বাড়তে শুরু করে। আর করোনা ভাইরাসের কারণে ঋণের চাহিদাও কমতে শুরু করে। আর বৈশ্বিক রীতি মেনে সংকটে মানুষের টাকা জমানো বাড়তে শুরু হয়। ফলে ব্যাংকগুলোতে অনেক অতিরিক্ত তারল্য জমে যায়। বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংকের নগদ অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি।

এর বাইরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত অনেক টাকা বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা আছে। এসব বিনিয়োগে এখন ৪ শতাংশের বেশি সুদ মিলছে না। এ জন্য ব্যাংকটি সুদহার কমিয়ে ভালো গ্রাহকের কাছে ঋণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলো ৫ শতাংশের কম সুদে ঋণ দেওয়ায় অগ্রণী ব্যাংক কতটা ভালো গ্রাহক ধরতে পারবে, তা সময়ই বলে দেবে। কারণ, কম সুদ ও সেবার মানে বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলো বেশ এগিয়ে।

৭ শতাংশ সুদে অগ্রণী ব্যাংক যে ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে, তার নাম অগ্রণী রিবেট লোন স্কিম। এই ঋণের উদ্দেশ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সাময়িক আর্থিক সমস্যা নিরসনে চলতি মূলধন জোগান। উৎপাদনমুখী সরকারি অগ্রাধিকার ও রপ্তানিমুখী শিল্প এই ঋণ বাড়তি সুবিধা পাবে। ব্যবসায় অভিজ্ঞতা হতে হবে পাঁচ বছর। এই ঋণ শোধ করতে হবে ছয় মাসের মধ্যে।

কম সুদের এই ঋণ দিতে ভালো গ্রাহকদের একটি যোগ্যতাও ঠিক করেছে ব্যাংকটি। যেসব গ্রাহকের ঋণ পাঁচ বছরের মধ্যে খেলাপি হয়নি। কোনো ঋণ পুনঃ তফসিল হয়নি ও সুদ মওকুফ সুবিধা নেয়নি। আবার কোনো ডিমান্ড ঋণ সৃষ্ট হয়নি, এমন গ্রাহকেরা এই ঋণ পাবে। গ্রাহককে ঋণ ব্যবহারের ও ঋণ কীভাবে পরিশোধ করা হবে, তা ব্যাংককে জানাতে হবে। নানা সমস্যার মধ্যে নতুন এই উদ্যোগকে ভালো হিসেবে দেখছেন ব্যাংকটির কর্মকর্তারা। যোগ্যতা শিথিল করে যাতে ঋণ দেওয়া না হয়, এমন দাবি জানিয়েছেন।

তথ্যসূত্র: প্রথম আলো।

ট্রেডার বাংলাদেশ, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here