সুদ আয়ে লোকসানে অগ্রণী ব্যাংক

0
112

ঋণের চাহিদা না থাকায় গত বছর বেসরকারি খাতের কয়েকটি ব্যাংক মেয়াদি আমানতের সুদ ২ শতাংশে নামিয়ে এনেছিল। সুদ বেশি কমে যাওয়ায় গত আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক মেয়াদি আমানতের সুদহার মূল্যস্ফীতির ওপরে, অর্থাৎ কমপক্ষে সাড়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করে দেয়। বেশির ভাগ বেসরকারি ব্যাংক যখন মেয়াদি আমানতের সুদহার কমিয়েছিল, ঠিক তখন রাষ্ট্রমালিকানাধীন অগ্রণী ব্যাংক বেশি সুদে আমানত সংগ্রহ করে। ব্যাংকটি মেয়াদি আমানতকারীদের ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ পর্যন্ত সুদ দেয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তহবিলের তীব্র চাহিদা তথা তারল্যসংকট না থাকার পরও অগ্রণী ব্যাংক আগ্রাসী পদ্ধতিতে সুদ বাড়িয়ে আমানত সংগ্রহ করেছে। ফলে এখন নিট সুদ আয়ে লোকসান গুনছে। অর্থাৎ ঋণের বিপরীতে সুদ বাবদ যে আয় করছে, তার চেয়ে উচ্চ হারে সুদ দিতে হচ্ছে আমানতের জন্য।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, আমানতে আগ্রাসী হওয়ায় অগ্রণী ব্যাংকের সুদ আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আমানতের বিপরীতে যে সুদ দিতে হয়, ঋণ থেকে সেভাবে আয় হচ্ছে না। ফলে ২০২০ সালে সুদ আয়ে ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে ১৯ কোটি টাকা। অথচ ২০১৯ সালে নিট সুদ আয় ছিল ৬৩৫ কোটি টাকা।

এ অবস্থায় অগ্রণী ব্যাংককে দুটি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তা হলো দুটি সরকারি সংস্থা থেকে নেওয়া আমানতের বিপরীতে ব্যাংকের বিদ্যমান সুদহার কার্যকর করা এবং ঘোষিত সুদহারের চেয়ে বেশি সুদে যাতে কোনো শাখা আমানত না নেয়। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের চাহিদা নিরূপণ, উচ্চ সুদে প্রাতিষ্ঠানিক আমানত গ্রহণ, উদ্বৃত্ত তারল্য, ঋণাত্মক সুদ আয়সহ তহবিল অব্যবস্থাপনার বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী, একটি ব্যাংক যে সুদহার ঘোষণা করবে, তার চেয়ে আমানত ও ঋণে বেশি সুদ কার্যকর করতে পারবে না। গত বছর অগ্রণী ব্যাংক ৬ মাস মেয়াদি আমানতে ৫ দশমিক ৮৫ শতাংশ ও এক বছর মেয়াদি আমানতে ৬ শতাংশ সুদ নির্ধারণ করে। তবে ওই সময়ে ব্যাংকটি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ থেকে ৭ থেকে ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ সুদে ২৪০ কোটি টাকার মেয়াদি আমানত নেয়। উচ্চ সুদে আমানত নিলেও গত বছরের ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকটিতে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল ১৮ হাজার ৭৫ কোটি টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here