ডজকয়েন কী, কেন এত উল্লম্ফন ?

0
57

এখন ক্রিপ্টোকারেন্সির দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ডজকয়েন। বিটকয়েনের মতোই আরেকটি ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা বা ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো এই ডজকয়েন।

ডজকয়েন চালু হয় ভিন্নধরনের এক ধারণা থেকে। ২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর ডজকয়েনের যাত্রা শুরু দুজন প্রকৌশলীর হাত ধরে। চালুর এক মাসের মধ্যে ডজকয়েন ডটকম ওয়েবসাইটে দশ লাখের বেশি ভিজিটর ভিজিট করেন।

বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইবিএমের দুজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী বিলি মার্কস ও জ্যাকসন পালমার ডজকয়েন নিয়ে আসেন। কিন্তু তারা ক্রিপ্টোকারেন্সি হিসেবে ডজকয়েন আনতে চাননি; চেয়েছিলেন একটা বিনামূল্যে অর্থ লেনদেন বা পেমেন্ট সিস্টেম তৈরি করবেন।

তারা কাজ শুরু করেন এমন একটি ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে যেখানে থাকবে না প্রথাগত ব্যাংক লেনদেনের ঝামেলা। কাজ শুরু করেন সেই লক্ষেই। কিন্তু ভাগ্য হয়তো ভিন্ন কিছুতেই তাদের টানছিল বলে পেমেন্ট সিস্টেম না হয়ে হয়ে যায় ডিজিটাল মুদ্রা ব্যবস্থা।

বিটকয়েনের মতোই ডজকয়েনও মাইনিং করতে হয় শক্তিশালী কম্পিউটারে। তবে বিটকয়েনের মতো অতো কঠিন পক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয় না ডজকয়েনের ক্ষেত্রে।

যেভাবে নামকরণ

একটা মজার বিষয় থেকেই ডজকয়েনের নামকরণ করেছেন দুই প্রকৌশলী। সে সময় ইন্টারনেটে শিবা ইনু নামের একটি কুকুরের মুখের মিম খুব জনপ্রিয় হয়। পরে সেই কুকুরের মুখকেই ডিজিটাল কয়েনটির লোগো হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন বিলি ও জ্যাকসন।

ইলন মাস্ক ও ডজকয়েন

ডজকয়েন বাজারে থাকলেও তা নিয়ে আলোচনা তেমন ছিল না। ইলেক্ট্রিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক গত ৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম টুইট করেন ডজকয়েন নিয়ে।

প্রথম টুইটের পরেই ডজকয়েনের দাম বাড়ে ৭৫ শতাংশ। সে সময় ডজকয়েনের বাজার মূলধন ৫০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়; সেটাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

সেই মূল্যবৃদ্ধির পর ডজকয়েন ক্রিপ্টোকারেন্সি হিসেবে শীর্ষ পাঁচে উঠে আসে।

পরে ৪ মে বিস্ময় ঘটায় ডজকয়েন। এদিন প্রথমবারের মতো এক বছরে ২০ হাজার শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি পেয়ে প্রতি বিটকয়েন ০.৫০ ডলারে দাঁড়ায়।

৮ মে হঠাৎ করেই মূল্য হারায় ডজকয়েন। এর পিছনেও ছিলেন ইলন মাস্ক। তিনি ঘোষণা দেন, ডোজকয়েন নিয়ে লাইভে আসবেন রাতে। লাইভ চলার সময় ৪৫ মিনিটে ডজকয়েনের দাম ৩৪ শতাংশ পড়ে যায়।

পরের দিন সকালে ডজকয়েনের মূল্য হারায় ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। আর এতে মোট ৩৫ বিলিয়ন ডলার কমে যায় ডজকয়েনের মূল্য।

এ মাসেই ঘটে ব্যতিক্রম ঘটনা। ইলন মাস্ক ঘোষণা দেন, তার প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স চাঁদে অভিযান শুরু করবে, যেখানে তাদের সঙ্গী হবে ডজকয়েন। অর্থাৎ সেই চন্দ্রাভিযানের ব্যয় বহন হবে ডজকয়েনে।

সেই ঘোষণাতেই বাজিমাত। হু হু করে বাড়তে থাকে ডজকয়েনের দাম।

ইলন মাস্ক এর আগে একবার সংবাদমাধ্যম টিএমজিকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে মজার ছলেই ডজকয়েনের উদ্ভাবন। অনেক সময় ভাগ্য বিদ্রূপ ভালোবাসে। সেটার ফলও যে সবসময় বিদ্রুপাত্মক হয় তা নয়, ডজকয়েন মজার ছলে তৈরি হলেও তা এখন আকাশছোঁয়া মূল্যে পরিণত হয়েছে।’

গত জানুয়ারিতে বিটকয়েনে ১৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেন টেসলাপ্রধান মাস্ক। পরের মাসে ঘোষণা আসে, টেসলার গাড়ি বিক্রি হবে বিটকয়েনে।

ওই ঘোষণার পরই তরতর করে বেড়ে যায় বিটকয়েনের মূল্য। ১৪ এপ্রিল প্রায় ৬০ হাজার ডলারে দাঁড়ায় বিটকয়েনের মূল্য। অবশ্য এর এক মাস পরেই সিদ্ধান্ত বদলান মাস্ক। জানান, পরিবেশের কথা চিন্তা করে বিটকয়েনে টেসলার গাড়ি বিক্রির সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে তার প্রতিষ্ঠান।

ঘোষণার পরই পড়তে থাকে বিটকয়েনের দর। তার মধ্যেই চীন জানায়, তারাও বিটকয়েন লেনদেনে বিধিনিষেধ আরোপ করছে। এরপরও ব্যাপক পতন হয় বিটকয়েনের দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ হাজার ডলার থেকে প্রতি বিটকয়েনের মূল্য কমে দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ডলারে।

ট্রেডার বাংলাদেশ, ০৬ জানুয়ারি, ২০২২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here