ক্রিপ্টো থেকে টাকা কামানোর কৌশল !

0
85
HTML tutorial

সম্প্রতি বিনিয়োগের জগতে রীতিমতো আলোচনার বিষয় হল ক্রিপ্টোকারেন্সি। এই নতুন মুদ্রা নাকি যে কোনও বিনিয়োগকারীর পকেট ভরিয়ে দিতে পারে৷ এই পথে রোজগার করে বেশ কিছু মানুষ ভালই সম্পত্তি বানিয়েছেন বলে নানা মহলে খবর৷ সে কথা রটায় অন্য আরও অনেকে উৎসাহীত হচ্ছেন এই পথে লগ্নি করতে ৷ মূলত, ক্রিপ্টোকারেন্সি পেমেন্টের ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে একটি মডেল হওয়ার উদ্দেশ্যে ছিল৷ তবে বর্তমানে, মানুষ অর্থ উপার্জনের জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ করছে।এটি যতটা সহজ মনে হচ্ছে ততটা সহজ নয়। বোঝার অভাবের কারণে অনেক লোক এখানে এসে অর্থ হারাচ্ছে অথবা অনেকে এই পথ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।

ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং ক্রিপ্টো-সম্পদ বাজারটি ব্যাপক অস্থির অবস্থায় থাকার ফলে দামের ওঠানামা এর একান্ত সঙ্গী।যখন দাম বৃদ্ধি পায় তখন বিনিয়োগকারীরা এই ক্ষেত্রের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং প্রবেশ করে আবার বাজার বিপর্যয়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদেরও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়।কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট কৌশল আছে যা অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে অর্থ উপার্জনের জন্য ব্যবহার করেন।

সুতরাং মনে রাখা উচিত এই ক্ষেত্রে অর্থ উপার্জনের জন্য অবশ্যই কিছু কৌশল রয়েছে আর সেটা মাথায় রেখেই এগোতে হবে বিনিয়োগকারীদের৷ আর নইলে আশাহত হতে হবে ৷ তাহলে এবার ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে মুনাফা অর্জনের জন্য পদ্ধতিগুলি বুঝে নেওয়া যাক।

প্রথমত মাথায় রাখতে হবে বিনিয়োগগত কৌশল৷ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে দীর্ঘমেয়াদী লগ্নি করাই হল একটি আদর্শ কৌশল৷ বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সির একটি কেনা এবং তা রেখে দেওয়াটা কৌশলের জন্য উপযুক্ত।বিটকয়েন এবং ইথেরিয়ামের মতো কয়েনগুলি স্বল্প সময়ের জন্য অস্থির হলেও দীর্ঘমেয়াদের জন্য লাভজনক।

দ্বিতীয়ত বুঝে নিতে হবে লেনেদেনগত কৌশল৷ একথা ঠিক অস্থির ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে লেনদেন করা কঠিন কিন্তু সেই সময় লেনদেন করাটা আবার অসম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে একজন সফল লেনদেনকারী হতে গেলে আপনার বিশ্লেষণাত্মক এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকতে হবে। তাহলে আগে থেকে বুঝে নিতে হবে কখন কী ভাবে দামের ওটা নামা ঘটবে৷ সেজন্য মূল্য বৃদ্ধি এবং হ্রাস সম্পর্কে সঠিক পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য তাকে দক্ষ ভাবে টেকনিক্যাল চার্ট বিশ্লেষণ করতে হবে। দাম কখন বাড়বে বা কমবে তা যদি আগাম বুঝতে পারেন তাহলে সময়মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারা যাবে কখন কিনতে হবে আর কখন বেচতে হবে৷ আর এটা করতে পারলেই ক্রিপ্টো কারেন্সি থেকে মুনাফা করতে পারা যাবে৷

তৃতীয়ত বুঝে নিন স্টেকিং বিষযটা ৷ স্টেকিং হল ক্রিপ্টোকারেন্সির মালিক হওয়ার একটি উপায় কিন্তু সেগুলো খরচ করার নয়।
ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন যাচাই হলে গেলে, তখন আপনি ক্রিপ্টো কয়েন আকারে তা পান পুরস্কার স্বরূপ। এরপর ওই কয়েনগুলি ক্রিপ্টো ওয়ালেটে লক করা থাকবে।একটি প্রুফ অফ স্টেক ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক যেটা অনেক ক্রিপ্টোকারেন্সি দ্বারা ব্যবহৃত হয় এই পদ্ধতির জন্য আদর্শ।এক্ষেত্রে সেটা আদর্শ পদ্ধতি৷ এখন লেনদেন যাচাই করার জন্য আপনি পুরস্কার স্বরূপ যেটা পান তা অনেকটা ক্রেডিট ব্যালেন্সের জন্য ব্যাংক যে সুদ প্রদান করবে তার অনুরূপ।

চতুর্থত সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত কৌশল৷ ২০১১ সাল থেকে, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করার জন্য বেশ কয়েকটি ব্লকচেইন স্টার্টআপ চালু করা হয়েছে।এই স্টার্টআপগুলির আবার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম রয়েছে এবং সেইসব সংস্থাগুলির মধ্যে অনেকগুলি সেই প্ল্যাটফর্মের নেটিভ ক্রিপ্টো কয়েন দিয়ে তাদের পুরস্কৃত করে যারা ওগুলির জন্য বিষয়বস্তু তৈরি এবং উপস্থান করে থাকেন৷

পঞ্চমত, মাইনিং সংক্রান্ত কৌশল৷ ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং কাজের প্রক্রিয়া প্রমাণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান৷ যদি আপনি একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং করেন, আপনি নতুন কয়েন দিয়ে পুরস্কৃত হবেন।মাইনিং এর জন্য বিনিয়োগ গণনা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি ঠান্ডা পরিবেশে আপনার একটি কোডিং ব্যাকগ্রাউন্ড এবং রীতিমতো শক্তিশালী কম্পিউটার থাকতে হবে।

ষষ্ঠত এয়ারড্রপ সংক্রান্ত কৌশল৷ এয়ারড্রপ হল সচেতনতা বাড়াতে বিনামূল্যে টোকেন বিতরণ করা হয় । সেটা সাধারণত ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ দ্বারা করা হয়৷ এয়ারড্রপগুলি একটি প্রকল্পের জন্য একটি বৃহত্তর ব্যবহারকারী বেস তৈরি করার জন্য করা হয়।এয়ারড্রপের মাধ্যমে প্রাপ্ত টোকেনগুলির সাহায্যে, আপনি আরও ক্রিপ্টোকারেন্সি কিনতে পারেন এবং তাদের সঙ্গে লেনদেন করতে পারেন।

ট্রেডার বাংলাদেশ, ২০ অক্টোবর, ২০২২

HTML tutorial

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here