ঝুঁকি কমিয়ে শেয়ারবাজারে লাভ করার উপায়

0
393

শেয়ার বাজারে লাভ করার উপায় আমরা সবাই জানি না। শেয়ার বাজারে আমরা সবাই লাভ করতে চাই, কিন্তু পারি না। কারণ আমরা অনেকেই মনে করি শেয়ার বাজারে প্রচুর ঝুঁকি রয়েছে। হ্যা, সত্যিই শেয়ার বাজার অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। আর তাই আজ কথা বলব কিভাবে ঝুঁকি কমিয়ে শেয়ার বাজারে লাভ করা যায় সেই উপায় গুলো নিয়ে।

শেয়ারবাজারে লাভ করার উপায়

একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে শেয়ার বাজারে ঝুঁকি কমাতে পারবেন, কিন্তু শতভাগ ঝুঁকি মুক্ত থাকতে পারবেন না। কেউ যদি চাই সম্পুর্ণ ঝুঁকি মুক্ত শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করবে, তবে তা এক কথায় অসম্ভব। অনেকেই শেয়ার বাজার বিনিয়োগে ঝুঁকি আছে এটি শুনেই বিনীয়োগ করা থেকে নিজেকে পিছিয়ে নেয়। তবে মজার বিষয় এই ঝুঁকির পিছনেই রয়েছে সফলতার হাতছানি। যা আমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে।

শেয়ার বাজার বর্তমান অবস্থা এবং কোন কোম্পানীতে বিনিয়োগ করছেন তার উপর অনেকাংশে আপনার শেয়ারের ঝুঁকি নির্ভর করবে। যদি ভালো কোম্পানীর শেয়ারে দীর্ঘ্য মেয়াদী বিনিয়োগ করেন। তাহলে ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা যায়। বাজার খারাপ হলে সাময়ীকভাবে দাম হয়তো কমতে পারে। কিন্তু তাতে হতাশ না হয়ে আপনাকে ধৈর্য্য ধারন করতে হবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে শেয়ার বাজারে শুধু মাত্র টাকা বিনিয়োগ করলেই হবে না। এছাড়াও আপনার মধ্যে আরও ২ টি বিষয় থাকতে হবে। এই ২টি বিষয় হল, শেয়ার বাজার সম্পর্কে জ্ঞান এবং ধৈর্য্য। মোট ৩ টি বিষয়, টাকা, জ্ঞান এবং ধৈর্য্য একসাথে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করলে আপনি একটা সময় বেশ ভালো টাকা লুফে নিতে পারবেন।

শেয়ার ক্রয়ের সঠিক সময়

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের সব থেকে সহজ এবং সাধারণ নিয়ম হল ভালো শেয়ার এ দীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগ করা। ওয়ারেন্ট বাফেটের মতে, লাভ করতে হয় শেয়ার কেনার সময়। তাই শেয়ারের দাম যখন কম থাকে তখন শেয়ার কেনার সঠিক সময় বলে বিবেচনা করা হয়। যখন শেয়ার বাজার সম্পর্কে বেশির ভাগ মানুষের ধারণায় নেগেটিভ থাকে। তখনই শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের ভালো সময়। আর যখন দেখবেন সকলের মুখে মুখে শেয়ার বাজারের জয়ের ধ্বনি। তখন বুঝে নিতে হবে সামনে ছোট কিংবা বড় ধরনের পতন আসলেও আসতে পারে। ব্যাংকে টাকা রেখে সুদ খাওয়ার চেয়ে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করে অনেক বেশি লাভ করা যায় যদি আপনি সঠিক সময়ে সঠিক শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারেন। আসুন ঝুঁকি কমিয়ে শেয়ার বাজারে লাভ করার উপায় গুলো জেনে আসি।

১. শেয়ার বাজার সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা

আপনার কষ্টের টাকা কোথায় বিনিয়োগ করবেন? কিভাবে লাভ আসে? কখন শেয়ার কিনবেন? কেন কিনবেন? কোন ক্যাটাগরির শেয়ার কিনবেন? কত দিনের জন্য কিনবেন? কত দিন পর কোন ক্যাটাগরির শেয়ার বিক্রি করা যায় ইত্যাদি প্রাথমিক ধারণা আপনার মধ্যে থাকতেই হবে। শেয়ার বাজার একটি বিশাল জগৎ। এখানে শেখার কোনো শেষ নেই। একজন নতুন বিনিয়োগ কারি হিসেবে একদম সকল বিষয় জেনেই আপনাকে শেয়ার বাজারে আসতে হবে তা কিন্তু নয়। আপনি আসতে আসতে শেয়ার বাজার সম্পর্কে বুঝতে পারবেন। তবে শুরুর আগে আপনাকে প্রাথমিক ধারণা নিয়েই শেয়ার বাজারে প্রবেশ করতে হবে।

২. টাকার অংক – শেয়ার বাজারে লাভ করার উপায়

কত টাকা কত দিনের জন্য বিনিয়োগ করবেন তা আগে থেকে জেনে নেওয়া জরুরি। একজন বিনিয়োগকারী হিসেবে অবশ্যই আপনাকে টাকার অংক নির্ধারণ করতেই হবে। একই সাথে একটি নির্দিষ্ট সময়ে বের করতে হবে। হতে পারে আপনি ৫ লক্ষ টাকা ৫ বছরের জন্য বিনিয়োগ করতে চান। যখন সময় এবং টাকার অংক নির্ধারণ করতে পারবেন, তখন সঠিক পরিকল্পনা ও ঠিক করতে পারবেন।

৩. কোম্পানী সম্পর্কে ধারণা

ভালো কোম্পানী মানেই ভালো শেয়ার না। আবার খারাপ কোম্পানী মানেই খারাপ শেয়ার না। আপনাকে এমন কোম্পানী বেছে নিতে হবে যাদের কোম্পানী প্রোফাইল ভালো এবং শেয়ার ও ভালো। আপনি যে কোম্পানীর শেয়ার কিনতে চান তারা কি ধরনের সেবা মানুষের মাঝে প্রদান করে তা জানতে হবে। একই সাথে কোম্পানীর মালিক কারা তাও জানতে হবে। তাদের অন্য কোনো ব্যবসা আছে কি না। কত টাকা লোন এ আছে ? তাদের নামে কোনো মামলা আছে কি না ? অন্য ব্যবসায় তাদের লাভ কেমন হচ্ছে ইত্যাদি অনেক গুলো বিষয় আপনাকে জেনে নিতে হবে।

৪. লাভ করতে সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ধরুন

শেয়ার বাজারে ঝুঁকি কমানোর একটি অন্যতম মাধ্যম হল ধৈর্য্য ধরা। সাধারণত কোনো বিনিয়োগকারি যখন কোনো ব্যাংকে DPS করে তখন সে অনায়াসে ৭ থেকে ৮ বছর অপেক্ষা করতে পারে। কিন্ত যদি সেই একই বিনিয়োগকারী শেয়ার বাজারে আসে তখন তার মধ্যে এরকম ধৈর্য্য আর থাকে না। এই অবস্থায় আমাদের উচিত টাকা এবং জ্ঞানের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ধৈর্য্য ধরা।

৫. শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক বিনিয়োগ

শেয়ার বাজারে অন্যতম এবং সেরা একটি মাধ্যম হল ধারাবাহিক ভাবে বিনিয়োগ করা। ধরুন আপনার প্রথমিক বিনিয়োগ হচ্ছে ৫ লক্ষ টাকা এবং একই সাথে আপনি যদি প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে বিনিয়োগ অভ্যাহত রাখতে পারেন। তবে বিশ্বাস করুন আপনি কমপক্ষে ৭০% বিনিয়োগকারীর চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারবেন।  ধারাবাহিক বিনিয়োগ করতে পারলে একদিক থেকে লস এড়াতে পারবেন এবং একই সাথে আপনি ভালো অংকের টাকা প্রফিট করতে পারবেন।

৬. শেয়ারবাজারে অবাস্তব প্রত্যাশা

আমরা যারা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করব তারা সবাই চাইবো লাভ করতে। একই সাথে লাভের নামে অবাস্তব প্রত্যাশা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে। যখনই আপনি অবাস্তব প্রত্যাশা করবেন তখনই আপনার মধ্যে লোভ চলে আসতে পারে। যা আপনাকে আরও অনেক বড় ঝুঁকি নিতে উৎসাহিত করবে। তাই শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে চাইলে এবং ঝুঁকি কমাতে চাইলে সকল ধরনের অবাস্তব প্রত্যাশা থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে।

৭. শেয়ারবাজারে আবেগ থেকে দূরে থাকুন

আবেগের বসে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকতে হবে। আবেগতারিত হয়ে শেয়ার ক্রয় করলে লস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। যখন আপনি কোনো একটি কোম্পানী নিয়ে এনালাইসিস করবেন তখন টেকনিক্যাল এনালাইসিস, ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস এবং এর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সাইকুলোজি বুঝতে হবে। এই অবস্থায় আবেগের বসে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

৮. পরামর্শ গ্রহণ করা

অনেকেই বলে থাকে অন্যের কথায় শেয়ার কিনলে লস হয়। আসলে কথাটি ঠিক এরকম না। একজন নতুন বিনিয়োগকারী হিসেবে আপনার উচিত হবে একজন অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে মতামত গ্রহণ করা।একই সাথে যত বেশি অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীদের সাথে মিশতে পারবেন ততই নানা মুখী জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। তবে শতভাগ অন্ধের মতো অন্যের কথায় শেয়ার বেচা কেনা করাটাও ঠিক হবে না।

৯. টাকা পয়সা হিসাবে দক্ষ হতে হবে

শেয়ার বাজারে প্রতিটি পয়সার বিশাল মুল্য আছে। যত কম শেয়ার দামে কিনে যত বেশি দামে বিক্রি করা যায় ততই লাভ বেশি হয়। আপনি যখন শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করবেন তখন ব্রোকার হাউজ আপনার কাছ থেকে একটি কমিশন কাটবে। ব্রোকার হাউজ বুঝে এই কমিশন কম বেশি হতে পারে।  এছাড়াও বোনাস শেয়ার, রাইট শেয়ার এবং বোনাস টাকা ইত্যাদি হিসাবে আপনাকে দক্ষ হতে হবে।

১০. একই কোম্পানীতে সকল টাকা বিনিয়োগ না করা

শেয়ার বাজারে ঝুঁকি কমাতে চাইলে কখনোই একই কোম্পানীতে আপনার সকল টাকা বিনিয়োগ করবেন না। আপনার হিসাব এবং এনালাইসিস সব সময় ঠিক নাও হতে পারে। যখনই একটি কোম্পানীতে সকল টাকা বিনিয়োগ করবেন এবং কোনো একটি কারনে যদি কোম্পানীর পার্ফমেন্স খারাপ হয়। তবে কিন্ত আপনি লসে পরে যেতে পারেন।

১১. অল্প টাকা দিয়ে শুরু করা

আপনি যদি এক্সপার্ট হয়ে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে চান তবে আপনি কখনই পারবেন না। কারন অনেক বিষয় রয়েছে। যা আপনি সরাসরি বুঝতে পারবেন না যতক্ষন না আপনি বাজারে আসেন। তাই অভিজ্ঞা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ এর ঝুঁকি কমানোর জন্য অল্প টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করে দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here