অনলাইনে বিও অ্যাকাউন্ট (BO Account) করবেন কিভাবে?

0
98

আপনি যদি শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ (INVESTMENT) করতে আগ্রহী হন, তাহলে কিন্তু শুরুতেই আপনাকে একটি বিও অ্যাকাউন্ট (BO Account) খুলে নিতে হবে। কারণ, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ( Investment) করার জন্য বিও অ্যাকাউন্ট অবশ্যই থাকতে হবে।

আজ আমরা দেখব, কিভাবে অল্প সময়ে খুব সহজে পৃথিবীর যে কোনো জায়গা থেকে বাংলাদেশে বিও অ্যাকাউন্ট (BO Account) খুলতে পারি।

এখন, চলুন কিভাবে একটি বিও অ্যাকাউন্ট খুলতে পারি তা জানার আগে আমরা জেনে নেই (BO Account) বিও অ্যাকাউন্ট কি?

বিও অ্যাকাউন্ট কি (What is BO Account)?

BO এর পূর্ণরুপ হল Bracket Orders. ব্যাংক অ্যাকাউন্টে যে রকম টাকা জমা থাকে ঠিক  সে রকম বিও অ্যাকাউন্টেও আপনার কেনা শেয়ার গুলো জমা রাখা হয়। এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট (Bank Account) খোলার জন্য যেমন আমাদের ব্যাংকে যেতে হয় সে রকম বিও (BO) অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য ও আমাদের ব্রোকার হাউজে যেতে হয়। আগের নিয়মে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আমাদের ব্রোকার হাউজে গিয়ে তাদের ফর্ম ফিল-আপ করে সাথে কিছু নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট দিয়ে তবেই বিও অ্যাকাউন্ট খোলা যেতো। এটি ছিল আগের নিয়ম।

কিন্তু বর্তমানে আপনি চাইলে ঘরে বসে মাত্র ৫ মিনিটে বিও অ্যাকাউন্ট (BO account) খুলে নিতে পারবেন।

এখানে বলে রাখা ভালো, বিও অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আপনার নির্দিষ্ট কিছু ডকুমেন্ট এর প্রযোজন হবে। 

বিও অ্যাকাউন্ট (BO Account) খুলতে কি কি প্রয়োজন?

১। প্রথমেই যার নামে বিও অ্যাকাউন্ট খোলা হবে তার একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে।

২। ঐ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ইস্যু করা একটি ব্ল্যাংক চেকের ছবি প্রয়োজন হবে।

৩। অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের নিজের ছবি।

৪। একাউন্ট হোল্ডারের স্বাক্ষরের ছবি।

৫। আপনি যদি বিও অ্যাকাউন্টে কোনো নমিনী রাখতে চান, তাহলে ঐ একই ভাবে নমিনীর ছবি ও তার স্বাক্ষরের ছবিও থাকতে হবে।

অনলাইনে বিও অ্যাকাউন্ট (BO Account) খোলার নিয়মঃ

ধাপ-১ঃ অনলাইনে বিও অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য গুগলের সার্চ বক্সে  ” CDBL Bangladesh” লিখে সার্চ করুন।  CDBL পূর্ণরুপ হল Central Depository Bangladesh Limited.  সার্চ করার পর Welcome to CDBl লিংকটিতে চাপুন। নিচের ছবিতে দেওয়া আছে।

bo account

ধাপ-২ঃ তারপর আমরা CDBL এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করব। পরবর্তী কাজ হল। ওয়েবসাইটের ডান দিকে ” Online BO Account Opening System” এ ক্লিক করা। নিচের ছবিটি দেখুন।

how to create bo account

ধাপ-৩ঃ এখন, আমরা Online BO Account Opening System এ  ক্লিক করার পর পরবর্তী পেইজে নিয়ে যাবে। এবং একটি Start বাটন থাকবে । আমরা সেই start বাটনে ক্লিক করব।  তারপর নিচের পেইজটি চলে আসবে।  এখানে দেখতে পাচ্ছেন ফোন নাম্বার এবং ই-মেইল অ্যাকাউন্ট দিতে বলা হচ্ছে।

আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে অ্যাকাউন্ট ওপেন করতে চান, তবে শুধু ফোন নাম্বার দিয়ে অ্যাকাউন্ট খোলা যাবে। চাইলে ইমেইল ও দিতে পারেন। কিন্তু আপনি যদি বাংলাদেশের বাহিরে থেকে অ্যাকাউন্ট চালু করতে চান তবে আপনাকে অবশ্যই ফোন নাম্বার এবং ইমেইল উভয় দিতে হবে। তথ্য গুলো দেওয়ার পর আপনার ফোন নাম্বারে একটি OTP Code চলে আসবে। কোডটি দিয়ে Next এ ক্লিক করবেন। তারপর আপনি অ্যাকাউন্ট করার সিস্টেমে চলে যাবেন। নিচের ছবিটি লক্ষ্য করুন।

ধাপ-৪ঃ যেহেতু আমরা নতুন অ্যাকাউন্ট চালু করব। তাই এই পেইজে আমরা “New BO Application” এ ক্লিক করব।  তারপর পরবর্তী পৃষ্ঠায় নিয়ে যাবে।

ধাপ-৫ঃ এখানে “Choose DP” তে আপনি আপনার ব্রোকার হাউজের নামটি সিলেক্ট করবেন। তারপর নিচে আমরা আরও ৩ টি অপশন দেখতে পাব।

১> BO Option : এখানে আপনি যদি নতুন বিও অ্যাকাউন্ট খোলেন তবে আপনি “New BO” সিলেক্ট করবেন। অন্যথায় “Link BO” সিলেক্ট করবেন।২> Residency : আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে বিও অ্যাকাউন্টি ( BO Account) চালু করতে চান তাহলে এখানে আপনি “Resident Bangladeshi (RB)” সিলেক্ট করবেন। অন্য দেশ থেকে হলে “Not-Resident Bangladeshi (NRB)”৩> BO Type : আপনি যদি আপনার নামে বিও অ্যাকাউন্ট টি চালু করতে চান তহলে আপনি “Individual” সিলেক্ট করবেন। অর্থাৎ অ্যাকাউন্ট টি আপনি একাই ব্যবহার করবেন।  অন্যথায় আপনি যদি অন্য কারো সাথে যোগ হয়ে অ্যাকাউন্ট চালু করতে চান তবে “Joint” সিলেক্ট করবেন।

ধাপ-৬ঃ এখানে আপনি আপনার NID কার্ডটি  দিবেন। যদি আপনার কার্ডটি স্মার্ট কার্ড হয় তবে “Smartcard” আগে সিলেক্ট করবেন।

আপনার যদি স্মার্ট কার্ড না হয়ে পুরাতন কার্ড হয়। তবে “Old NID” সিলেক্ট করবেন।  কিছু কিছু NID Card এ আমরা দেখতে পাই ১৩ ডিজিটের। সেক্ষেতে আপনি আপনার কার্ড নাম্বার এর আগে ৪ সংখ্যার আপনার জন্মসাল দিবেন। তারপর “enter your NID number ” এ আপনার কার্ড নাম্বার দিয়ে “Next” চাপুন।

ধাপ-৭ঃ এখানে আপনার যাবতীয় তথ্য দিতে হবে। যে সকল তথ্যের বক্সগুলোর পাশে “Optional” লিখা আছে সেগুলো না দিলেও হবে। ডান পাশে পাসপোর্ট নাম্বার দেওয়ার একটি অপশন আছে।

আপনি যদি বাংলাদেশি হন তবে পাসপোর্ট নাম্বার না দিলেও হবে। দিলেও সমসা নেই। কিন্তু আপনি যদি দেশের বাহিরে থাকেন তবে পরবর্তীতে আপনাকে পাসপোর্ট নাম্বার দিতে হবে।

ধাপ-৮ঃ এই পৃষ্ঠায় আপনাকে আপনার ব্যাংকের তথ্য দিতে হবে। রিকয়ারমেন্ট অনুযায়ী আপনি আপনার ব্যাংক নাম্বার সহ যাবতীয় তথ্য দিবেন।

বলে রাখা ভালো, আপনি যদি ‘Routing Number” খুজে না পান। তবে আপনি আপনার ব্যাংকের চেক পেপারে উপরের দিকে দেখবেন ৯ ডিজিটের একটি নাম্বার আছে এটাই  আপনার রাউটিং নাম্বার।

ধাপ-৯ঃ আর্টিক্যালের প্রথমে যে সকল ডকুমেন্ট এর কথা বলা হয়েছিল, সেগুলো এই ধাপে প্রতিটি ডকুমেন্ট এর ছবি তুলে আপলোড করতে হবে।

তারপর next বাটনে ক্লিক করবেন। এবং আবার সাবমিট বাটনে ক্লিক করবেন। আপনার ব্রোকার আপনার তথ্যগুলো পাওয়ার পর আপনার মোবাইল এবং আপনার ইমেইলে কনফর্মেশন মেসেজ পাঠাবে।

ধাপ-১০ঃ তারপর next বাটনে ক্লিক করবেন। এবং আবার সাবমিট বাটনে ক্লিক করবেন। আপনার ব্রোকার আপনার তথ্যগুলো পাওয়ার পর আপনার মোবাইল এবং আপনার ইমেইলে কনফর্মেশন মেসেজ পাঠাবে।

তারপর ‘Chack Status and payment” বাটনে ক্লিক করতে হবে। এবং ৪৫০ টাকা অ্যাকাউন্ট ফি দিতে হবে আপনার অ্যাকাউন্ট ওপেন করার জন্য। এই ফি আপনি ঘরে বসেই বিকাশ, নগত, রকেট, ATM কার্ড বা ব্যাংকে দিতে পারবেন।  টাকা পে হয়ে গেলে তারা আপনাকে আবার একটি মেসেজ দিয়ে যানিয়ে দিবে যে আপনার অ্যাকাউন্ট খোলা হয়ে গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here