টেকনিক্যাল এনালাইসিস করে ভালো শেয়ার কেনার কৌশল

0
152

টেকনিক্যাল এনালাইসিস (Technical Analysis ) করে ভালো শেয়ার কেনার কৌশল শিরোনামের লেখাতে আপনাকে স্বাগতম। আজকে জানব খুব কম সময়ে মাত্র কয়েক মিনিট ব্যয় করে যে কোনো কোম্পানীকে Technical Analysis করে সেই কোম্পানীটির শেয়ার কিনব? নাকি কিনব না! সেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া যায় কিভাবে? বন্ধুরা এই কাজটি আমরা সবাই করতে পাড়ব। এটি করা জন্য আমাদের তেমন কোনো ফিন্যান্সিয়াল জ্ঞান থাকতে হবে না। এমনকি এটার জন্য কোন পূর্ব অভিজ্ঞতারও প্রয়োজন নেই।

একজন বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করার জন্য নিজে নিজে কোম্পানি সিলেক্ট করেন না কেন? কোন শেয়ারটি কিনবেন, তার জন্য বিনিয়োগকারীগণ এক্সপার্ট এডভাইজারদের উপর নির্ভর করেন কেন? সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কেন-ই-বা রিসার্চ করে বিনিয়োগের জন্য স্টক সিলেক্ট করতে পারেন না? আমরা নিজেরাই চেষ্টা করলে ভালো স্টক খুজে বের করতে পারব। এই কনফিডেন্স টুকু আমাদের মধ্য নেই কেন? এতোক্ষন যে কেন গুলো শুনলেন সে সব কেন এর উত্তর আজ আমরা জানব।

Technical Analysis না করার কারণঃ

মুলত ৩ টি কারণ রয়েছে,যেগুলোর কারণে বিনিয়োগকারীগণ নিজেরা এনালাইসিস করে কোন শেয়ারটি কিনবেন তা খুজে বের করার সাহস পায় না।

1. Stock Selection Is a complex process

প্রথম কারণটি হল, বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীরা মনে করেন। স্টক সিলেকশন একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং এর জন্য অনেক ফিনান্সিয়াল জ্ঞান থাকতে হয়। আমরা বলব তাদের ধারনাটি একদমই সত্য নয়!

2. Stock Research is time consuming

দ্বিতীয়ত বিনিয়োগকারীরা মনে করেন, Research বা Analysis করতে  অনেক সময় লাগে। এটিও কিন্তু সঠিক নয়। যদি আপনার কাছে প্রয়োজনীয় কিছু টুলস থাকে এবং আপনি যদি জানেন কোথায় কিভাবে রিসার্চ করতে হয়। তাহলে এই কাজটি খুব কম সময়েই করে ফেলতে পারবেন।

3. Stock Analysis is a difficult process

তৃতীয়ত বিনিয়োগকারীগন মনে করেন, Stock Analysis একটি কঠিন প্রক্রিয়া। এটা করা জন্য অনেক মানসিক ইনভলমেন্টের প্রয়োজন হয়।  আসলে এই ধারণাটিও সঠিক নয়।Stock Analysis খুবই সহজ এবং মজাদার একটি প্রসেস।

তো চলুন এখন আমরা দেখব, কিভাবে মাত্র কয়েক মিনিটে যে কোনো কোম্পানীকে Analysis করা যায়। আমরা আপনাকে কিছু ক্রাইটেরিয়া এবং কিছু পয়েন্ট বলব। এইসব পয়েন্ট ধরে ধরে যে কোন কোম্পানিকে চেক করলেই আপনি বুঝতে পারবেন। সেই কোম্পানীকে Analysis বা Research  করে আপনার সময় নষ্ট করবেন কি না। অর্থাৎ সেই কোম্পানির পিছনে এনালাইসিস কিরে সময় নষ্ট করা ধরকার আছে কি নেই। তার মানে আপনি কোম্পানীগুলোকে ফিল্টার করে নিবেন। অনেক অনেক কোম্পানীগুলোর মধ্য থেকে আপনি ভালো এবং খারাপ কোম্পানী গুলোকে আলাদা করে নিবেন। খারাপ কোম্পানীগুলোকে বাদ দিয়ে ভালো কোম্পানীগূলোকে Analysis করবেন।  এবং সেখান থেকে কোনটি বিনিয়োগের জন্য যোগ্য সেটি বাছায় করবেন।

Technical Analysis করার জন্য আপনাকে ৪ থেকে ৫ টি বিষয় ফিল্টারিং করতে হবে।

Filters for Technical Analysis

Filter-1: Growth in Profit

Technical Analysis এর জন্য প্রথম ফিল্টার হল Growth in process. যদি কোনো কোম্পানীর Profit কোনো বছর কম হয় আবার কোন বছর বেশি হয়। অথবা প্রতি বছর Profit কমে যাচ্ছে। বা Profit স্টেবল বা সমান রয়েছে। অর্থাৎ একই রকম প্রফিট প্রতি বছর ই দিয়ে যাচ্ছে। তাহলে এই কোম্পানী থেকে আমরা দূরে থাকব। আমাদের এমন কোম্পানী প্রয়োজন যে কোম্পানীগুলো লাগাদার প্রতি বছরই বেড়ে চলেছে। কারণ Profit বাড়তে থাকলে EPS বাড়বে। আর EPS বাড়তে থাকলে শেয়ার এর দামও বাড়বে।তাই আপনি যে স্টকটি নিয়ে Research করছেন। আপনাকে দেখতে হবে সেই কোম্পানীর বছর বছর profit বাড়ছে কি না।

Growth in profit for Teachnical analysis

Filter-2: Debt of Technical Analysis

Technical Analysis এর জন্য দ্বিতীয় ফিল্টার হল Debt. Debt মানে লোন। সবচেয়ে ভালো কোম্পানী সেটি যার কোনো Debt নেই। অথবা থাকলেও খুবই নগন্য। DAC Website এ কোম্পানী ইনফোর নিচের দিকে গেলে সেই কোম্পানির শর্ট টার্ম এবং লং টার্ম  লোন কত? বা তাদের কোনো লোন আছে কিনা তা সহজেই দেখা যায়।

এছাড়াও যে কোনো কোম্পানীর বছব ভিত্তিক লোন কত বা কোন ব্যাংক থেকে কত নিয়েছে এসব তথ্য উল্লেখ থাকে। মনে রাখবেন কোম্পানী যদি কোন সময় কোনো ফিনেন্সিয়াল ক্রাইসিসে পড়ে তাহলে তার দেনা যত কম থাকবে সে তত কম সমস্যায় পড়বে। লোন, ধার, কর্য ইত্যাদি যত বেশি থাকবে তার ফিনেন্সিয়াল  ক্রাইসিসে কোম্পানীটি টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।  তাই সুত্র হচ্ছে যার Debt যত কম সে তত বেশি সুরক্ষিত।

Filter-3: Return on Equity of Technical Analysis

তীয় ফিল্টার হল Return on Equity (ROE). আপনি যখন কোন কোম্পানির শেয়ার কেনেন তখন আপনি ঐ কোম্পানীর ROE হবেন তাই আপনাকে দেখতে হবে আলোচ্য কোম্পানীটি শেয়ার হোল্ডারদের টাকার বিপরীতে কত % টাকা রিটার্ন দিতে পারে বা দিয়ে আসছে। কোনো শেয়ার কিনে আপনি যদি সেখান থেকে ২০% রিটার্ন আশা করেন,  তাহলে আপনাকে ঐ কোম্পানীটি খুজে বের করতে হবে। যার Return on Equity (ROE) ২০% এর থেকে বেশি। যাতে করে ভবিষ্যতে ২০% বা তার চেয়েও বেশি টাকা রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। Return on Equity হচ্ছে Technical Analysis এর একটি পার্ট। শেয়ার হোল্ডারদের  বিনিয়োগকৃত টাকার বিপরীতে কোম্পানীটি কত % রিটার্ন এনে দিচ্ছে এটি বের করাই Return on Equity এর কাজ।

Filter-4: Management of Technical Analysis

ফিল্টার হল Management. যদি কোম্পানির ম্যানেজমেন্ট ইথিক্যাল না হয়। যদি কোম্পানীর বিরুদ্ধে কোন মামলা থাকে। বিভিন্ন কোম্পানী থেকে কমপ্লেক্স ইস্যু থাকে,  যদি তাদের বিরুদ্ধে টেক্স ফাকির অভিযোগ থাকে, পরিবেশ দূষণের অভিযোগ থাকে। তাহলে কোম্পানীটি তাদের ম্যানেজমেন্টকে না পরিচালনা করে মামলা মোকাদ্দমার পেছনে বেশি সময় দিতে হবে। তাছাড়া এসব অভিযোগের ফলে সেই কোম্পানির রেপুটেশন্টাও খারাপ হয়ে যাবে। আর রেপুটেশন খারাপ হলে এই কোম্পানীর শেয়ার দাম মাস্ট ফল্ট করবে। তাই যে সব কোম্পানীর পেছনে এই কারণগুলো রয়েছে তাদের পেছনে ইনভেস্ট না করাই ভালো।

কোনো কোম্পানীর বিরুদ্ধে বা সেই কোম্পানীর মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা মুকাদ্দমা রয়েছে কি না। তা জানতে গুগলে গিয়ে সেই কোম্পানীর নিউজ সার্চ দিলেই পেয়ে যাবেন। খারাপ ভালো যা-ই থাকুক না কেন। সব খুজে পাবেন।  মালিক পক্ষ অর্থাৎ যারা কোম্পানী পরিচালনা করেন । তারা সৎ, যোগ্য কি-না তা অবশ্যই বিনিয়োগের আগে Technical Analysis করে দেখে নিবেন।

managment of analys

Filter-5: Competitive advantage of Technical Analysis

ফিল্টার হল Competitive Advantage. ধরুন আপনি একটি ব্যাংক সিলেক্ট করেছেন তার এনালাইসিস করার জন্য ব্যাংক সেক্টরে মোট ৩০টির মতো ব্যাংক আছে। আপনি যে ব্যাংকের শেয়ারটি কিনবেন। সেই ব্যাংকের স্পেশাল কি আছে? সেটি অন্য ব্যাংক থেকে কোন কোন দিক থেকে আলাদা। বা সেই ব্যাংকটির কি কি Competitive Advantages আছে। সেগুলো জেনেই আপিনাকে সেই ব্যাংকের শেয়ার কিনতে হবে।

মনে রাখবেন, একটি কোম্পানীর যদি কোনো Competitive Advantage না থাকে তবে সেই কোম্পানীটি লং রানে কখনোই ভালো কিছু করতে পারবে না।  কোনো কোম্পানীতে স্পেশাল কোনো কিছু না পাওয়া গেলে তার থেকে দূরে থাকায় শ্রেয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here