গ্রাহকদের টাকার দায়িত্ব ক্লিয়ারিং ব্যাংকে দেওয়ার প্রস্তাব চীনের

0
296

পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে গ্রাহকদের টাকা সংরক্ষণের ক্লিয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কৌশলগত বিনিয়োগকারী। ডিএসইর ১০০৫ তম পর্ষদ সভায় তারা এ প্রস্তাব দেন। ইতোমধ্যে এই প্রস্তাব নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।

সূত্র মতে,কৌশলগত বিনিয়োগকারী চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ মনে করে এর মাধ্যমে গ্রাহকদের স্বার্থ খুব সহজেই রক্ষা করা সম্ভব। এটি করা হলো কোন ব্রোকার কনসোলিডেটেড কাস্টমারস অ্যাকাউন্টের (সিসিএ) টাকা নিয়ে নয়-ছয় করতে পারবে না। ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি মুক্ত থাকবে। তবে এটি কার্যকর করার জন্য বাংলাদেশে কোনো নীতিমালা নেই। এটি বাস্তবায়ন করতে হলো বিএসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক মিলে একটি আইন করতে হবে। যাতে করে গ্রাহকদের টাকার সুরক্ষা দেওয়া যায়।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৪ সেপ্টেম্বর চীনা কনসোর্টিয়ামের কাছে সাড়ে ৯শ’ কোটি টাকায় ২৫ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা হস্তান্তর করে ডিএসই। এর আগে ১৪ মে শেনঝেন-সাংহাই স্টক এক্সচেঞ্জের চীনা কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি সই করে ডিএসই। কৌশলগত বিনিয়োগকারী হিসেবে চীনা জোট ডিএসইর ২৫ শতাংশ বা ৪৫ কোটি ৯ লাখ ৪৪ হাজার ১২৫টি শেয়ারের মালিক।

ডিএসই সূত্র মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ডিএসইর কয়েকটি সদস্য কনসোলিডেটেড কাস্টমারস অ্যাকাউন্টের (সিসিএ) টাকা নিজেদের মতো করে ব্যবহার করেছে। এতে করে বিনিয়োগকারীদের মনোবলে চির ধরেছে। নষ্ট হয়েছে পুঁজিবাজারের সুনাম। এটি বন্ধ করা না গেলে আগামীতে আরও বেশি মাশুল দিতে হবে বলে মনে করে ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী।

তার প্রস্তাবে বলা হয়, এক সময় চায়নাতেও অনেক ব্রোকার এই কাজ করতো। নিজেদের মনমতো গ্রাহকদের টাকা ব্যবহার করতো। পরবর্তীতে তৃতীয় পক্ষকে মানে ক্লিয়ারিং ব্যাংকে এই দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকে গ্রাহকদের টাকার তছরুপ বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে ডিএসইতে আটটি ব্যাংক ক্লিয়ারিংয়ের জন্য তালিকাভুক্ত। ব্যাংকগুলো হলো রুপালী ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, সিটি ব্যাংক,পূ বালী ব্যাংক, আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, এসআইবিএল এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড।

এ বিষয়ে ডিএসইর চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, কৌশলগত অংশীদারের কাছ থেকে অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ নিতে পারে ডিএসই। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি। তবে ডিএসই শিগগিরই সিসিএ মনিটরিং সম্পর্কিত একটি প্রস্তাব বিএসইসির কাছে দিবে ডিএসই।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, ডিএসইর কৌশলগত বিনিয়োগকারী চীনের শেনজেন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রাহকদের স্বার্থে যদি এমন প্রস্তাব দেয়, তাহলে তাদেরকে সাধুবাধ। পুঁজিবাজার ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য এটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় কমিশন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here