মুনাফা ৩৬২ কোটি টাকা হলেও শেয়ারহোল্ডাররা পাবে কাগজ

0
148

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল ব্যাংকের ২০২০ সালের ব্যবসায় প্রায় ৩৬২ কোটি টাকার নিট মুনাফা হয়েছে। তবে এর মধ্য থেকে শেয়ারহোল্ডারদের ১ টাকাও না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। এরফলে ব্যাংকটিকে ১৫ কোটি টাকারও বেশি জরিমানা দিতে হবে। তবে বিনিয়োগকারীরা অভিযোগ করছে ন্যাশনাল ব্যাংক সমাপ্ত অর্থবছরে ভালো মুনাফা করলেও শেয়ারহোল্ডাদের টাকা লুটেপাটে খাচ্ছে। এতে পরিচালকরা লাভবান হলেও শেয়ারহোল্ডারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরের অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ি, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি কোনো অর্থবছরে নগদ লভ্যাংশের বেশি বোনাস শেয়ার দিতে পারবে না। অর্থাৎ বোনাস লভ্যাংশ সর্বোচ্চ নগদ লভ্যাংশের সমান হতে পারবে। যদি কোনো কোম্পানি বোনাস শেয়ার বেশি দেয়, তাহলে ওই বোনাস শেয়ারের উপর ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। তারপরেও তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পরিশোধিত মূলধনের ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদ ২০২০ সালের ব্যবসায় শুধুমাত্র ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ন্যাশনাল ব্যাংকের ২০২০ সালের ব্যবসায় সমন্বিতভাবে শেয়ারপ্রতি ১.১৮ টাকা হিসেবে ৩৬১ কোটি ৮৪ লাখ টাকার নিট মুনাফা হয়েছে। এরমধ্যে থেকে ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ারবাবদ শেয়ারপ্রতি ০.৫০ টাকা করে মোট ১৫৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা দিয়ে পরিশোধিত মূলধন বাড়ানো হবে। বাকি ২০৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা রিজার্ভে যোগ হবে। এর মাধ্যমে কোম্পানির মুনাফার ১ টাকাও শেয়ারহোল্ডারদের মাঝে বিতরন করা হবে না। এরফলে কোম্পানিটিকে ১৫৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার বোনাস শেয়ারের উপর ১০ শতাংশ হারে ১৫ কোটি ৩৩ লাখ টাকার অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

এদিকে ব্যাংকটির ২০২০ সালের শেষ প্রান্তিকের (অক্টোবর-ডিসেম্বর ২০) ব্যবসায় বড় উত্থান হয়েছে। কোম্পানিটির ২০২০ সালের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) হয়েছিল ০.৪৭ টাকা। তবে বছর শেষে এই মুনাফার পরিমাণ বেড়ে দাড়িঁয়েছে ১.১৮ টাকায়। অর্থাৎ কোম্পানিটির ২০২০ সালের মুনাফার ৬০.১৭ শতাংশ এসেছে শেষ প্রান্তিকে।

তারপরেও ব্যাংকটির আগের বছরের তুলনায় মুনাফায় পতন হয়েছে। আগের বছরের ১.৩৪ টাকার ইপিএস ২০২০ সালে ১.১৮ টাকায় নেমে এসেছে। এক্ষেত্রে ইপিএস কমেছে ০.১৬ টাকা বা ১১.৯৪ শতাংশ। উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ ৩ হাজার ৬৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৬৯.০১ শতাংশ। কোম্পানিটির শনিবার (০৩ জুলাই) শেয়ার দর দাড়িঁয়েছে ৮ টাকায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here