পুঁজিবাজারে হঠাৎ লেনদেন কমে যাওয়ার কারন

0
174

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন আরও কমেছে। এ বাজারে চলতি বছরের সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে গতকাল বুধবার। দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮৮৮ কোটি টাকা। এর আগে ডিএসইতে চলতি বছরের সর্বনিম্ন লেনদেনের রেকর্ডটি ছিল ৮৯৪ কোটি টাকার। সেটি হয়েছে গত ২ জানুয়ারি।

লেনদেন কমলেও টানা তিন কার্যদিবস পতনের পর সূচক বেড়েছে গতকাল। এদিন ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩১ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৪৯ পয়েন্টে। সূচকের উত্থানে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও বাজারে অংশগ্রহণ কমেছে। যার প্রভাব লেনদেনে পড়েছে।

পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কিছু কিছু কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ আটকে গেছে। কারণ, ওই সব শেয়ারের দাম অনেক কমে গেছে। ফলে ওই বিনিয়োগকারীরা লেনদেনে নিয়মিত হতে পারছেন না। লেনদেনে নিয়মিত হতে হলে তাঁদের লোকসানে শেয়ার বিক্রি করতে হবে। এর মধ্যে যাঁরা ওই সব শেয়ারে ঋণ করে বিনিয়োগ করেছেন, লোকসানে বিক্রি করলে তাঁদের পুঁজিতে বড় ধরনের টান পড়বে। তাই লোকসানে শেয়ার বিক্রি না করে অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁরা।

উদাহরণ হিসেবে সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) শেয়ারের কথা বলেছেন অনেকে। ৬ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ১৪৮ টাকা। ওই দিন কোম্পানিটির প্রায় ৮৪ লাখ শেয়ারের হাতবদল হয়। গতকাল দিন শেষে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১২৫ টাকায়। এই কদিনে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম সাড়ে ১৫ শতাংশ বা ২৩ টাকা কমেছে। আর গতকাল দিন শেষে হাতবদল হওয়া শেয়ারের সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ লাখ। ফলে ৬ ফেব্রুয়ারি যাঁরা কোম্পানিটির শেয়ার কিনেছিলেন, তাঁরা আর লাভের মুখ দেখেননি। ওই শেয়ারে আটকে গেছেন তাঁরা। গতকাল পর্যন্ত তাঁদের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২৩ টাকা। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিএসসির শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশের বিনিয়োগ আটকে গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শীর্ষস্থানীয় এক ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহী বলেন, বিএসসি ছাড়াও বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিমে বিনিয়োগকারীদের বড় অঙ্কের অর্থ আটকে গেছে। কারণ, কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ১০০ টাকায় উঠে আবার ৭৫ টাকায় নেমে গেছে। এতে লোকসানের মুখে পড়ে অনেকে ওই শেয়ার নিয়ে চুপচাপ বসে আছেন। কোম্পানিটিতে আটকে থাকা বিনিয়োগকারীদের ওই অর্থ নিয়মিত লেনদেনে আনতে হলে হয় লোকসানে শেয়ার বিক্রি করে দিতে হবে, নয়তো শেয়ারের দাম বাড়তে হবে।

জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, শেয়ারের দাম ও লেনদেন কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা লোকসানে শেয়ার বিক্রি করছেন না। যার নেতিবাচক প্রভাব সার্বিক লেনদেনের ওপর পড়েছে। বিনিয়োগকারীরা লোকসানে শেয়ার বিক্রি না করলে তাতে বাজারে চাহিদা তৈরি হয়। আর তখন দাম বাড়তে শুরু করে।

ট্রেডার বাংলাদেশ, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here