ডিএসইতে শুরুতে বিক্রির চাপ, দিনশেষে ক্রয়ের চাপ

0
96

দিনভর সূচকের ওঠানামার মধ্যদিয়ে শেয়ারবাজারে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস লেনদেন শেষ হয়েছে। তবে দিনের শুরুতে বিক্রির চাপ থাকলেও দিনশেষে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবনতা বিরাজ ছিল। সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস আর্থিক খাতের শেয়ারে সুবাতাস বইছে। সাড়ে চার ঘণ্টার লেনেদেনের মধ্যে শুরুর ও শেষ আধা ঘণ্টা ছাড়া বাকি সাড়ে ৩ ঘণ্টায় সূচকের পতন হয়েছে।

তবে দিনের লেনদেনের টার্নিং পয়েন্ট ছিল শেষ আধা ঘণ্টা অর্থাৎ দুপুর ২টা থেকে ২টা ৩০ মিনিট সূচক পতন ঠেকেছে দেশের পুঁজিবাজারে। এসময় ডিএসইর প্রধান সূচক ৬ হাজার ৬০৪ পয়েন্ট থেকে ২৫ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৬২৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টানা ছয়দিন দাম বাড়ার পর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতায় ছিল। ফলে মঙ্গল-বুধবার বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম ও বিনিয়োগকারীদের পুঁজি কিছুটা কমেছে। এটা মূল্যসংশোধন। এতে বিচলিত হওয়ার কিছু নেই।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ওষুধ, বিমা, প্রকৌশল, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসহ বেশির ভাগ খাতের শেয়ারের দাম কমেছে। তবে বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোন, স্কয়ার ফার্মা, বেক্সিমকো এবং লাফার্জহোলসিমসহ বেশি কিছু বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচক পতন থেকে রক্ষা পেয়েছে পুঁজিবাজার। এছাড়াও বস্ত্র ও আর্থিক খাতের মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন হয়েছে।

আর তাতে দিনভর সূচক ওঠানামা শেষে এদিন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক বেড়ে ৫ পয়েন্ট। অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সূচক কমেছে ৪ পয়েন্ট। ডিএসইতে সূচক পতন ঠেকলেও বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম ও লেনদেন কমেছে।

ডিএসইর তথ্যমতে, বুধবার মোট ৩৭৬টি প্রতিষ্ঠানের ৭১ কোটি ৩৪ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮৬টি শেয়ার হাত বদল হয়েছে। তা থেকে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ২১২ কোটি ৮৯ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। যা আগের দিন ছিল ২ হাজার ৮৪০ কোটি ১১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ তার আগের দিনের চেয়ে লেনেদেন কমেছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১১১টির, কমেছে ২৩৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৯টির। বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমার দিনেও তিন সূচকের মধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৬২৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

প্রধান সূচকের পাশাপাশি ডিএসইর অন্য সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক এক পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৪৪৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১৩ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৩৯৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

ডিএসইতে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে শীর্ষে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। এরপর ক্রমান্বয়ে ছিল আইএফআইসি ব্যাংক, মালেক স্পিনিং, লাফার্জহোলসিম,ইসলামিক ফাইন্যান্স, অরিয়ন ফার্মা, এপোলো ইস্পাত, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, বেক্সিমকো ফার্মা এবং জিপিএইচ ইস্পাত লিমিটেড।

অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৪ পয়েন্ট কমে ১৯ হাজার ২৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২০৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ৯৪টির, কমেছে ১৯৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৮৩টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮৮ কোটি ১৩ লাখ ২২ হাজার ৯১২ টাকা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here