২ বছরের মধ্যে ৪ কোম্পানির শেয়ার দর সর্বোচ্চ

0
77

ভালো কোম্পানিকে পেছনে ফেলে পুঁজিবাজারে উত্থান হচ্ছে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ কোম্পানির দর। যা পুঁজিবাজারের জন্য নেতিবাচক পরিস্থিতি বয়ে আনবে। গত সপ্তাহে ডিএসই’র সাপ্তাহিক গেইনারের তালিকায় দেখা গেছে দুর্বল ও ঝুঁকপূর্ণ ৪ কোম্পানি জায়গা করে নিয়েছে। কোম্পানিগুলো হলো: এপোলো ইস্পাত, সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড এবং ডেল্টা স্পিনার্স। বেশ কিছুদিন ধরেই ধারাবাহিকভাবে এসব দুর্বল কোম্পানির দর বেড়ে চলেছে।

এর ফলে সাপ্তাহিক দর বৃদ্ধির তালিকায় ওঠে এসেছে এই ৪ কোম্পানি। পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর দর বর্তমানে ২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে ৩টি কোম্পানিই ধারাবাহিকভাবে লোকসান দেখিয়েছে। এরপর কিভাবে কোম্পানিগুলোর দর বাড়ছে তার কারণ অনুসন্ধান করে যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

জানা যায়, উল্লেখিত কোম্পানিগুলোর মধ্যে গত সপ্তাহে সবচেয়ে বেশি দর বেড়েছে এপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্সের। সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দর বেড়েছে ২৩.৫৩ শতাংশ। এর ফলে কোম্পানিটির সাপ্তাহিক গেইনার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির মোট ১৪১ কোটি ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে। দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৩৫ কোটি ৩৩ লাখ ৭০ হাজার ৭৫০ টাকার।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির দর ৯০ পয়সা ৬.৫২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ৭০ পয়সায়, যা গত ২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ৮ কার্যদিবস ধরেই ধারাবাহিকভাবে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে। ৮ কার্যদিবসে কোম্পানিটির দর বেড়েছে ৪ টাকা ৯০ পয়সা বা ৫০ শতাংশ।
২০১৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া প্রকৌশল খাতের ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটির অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন যথাক্রমে- ৫০০ কোটি টাকা ও ৪০১ কোটি ৩০ লাখ টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির রিজার্ভের পরিমাণ ২৬৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা। গত তিন প্রান্তিকেই

ধারাবাহিকভাবে লোকসান দেখিয়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে লোকসান ৯ পয়সা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান ১৪ পয়সা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসান ১৮ পয়সা। বর্তমানে কোম্পানিটির পিই রেশিও নেগেটিভ, যা বিনিয়োগের জন্য খুবই ঝুঁকিপুর্ণ।

কোম্পানিটি গত ২ বছর যাবত বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো ডিভিডেন্ড দেয়নি। সর্বশেষ ২০১৮ সালে ৩ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। কোম্পানিটির ৪০ কোটি ১৩ লাখ ৮ হাজার ৬০০ শেয়ারের মধ্যে ২০.২৪ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ২১.০৫ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ০.৫১ শতাংশ বিদেশি এবং ৫৮.২০ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল : সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দর বেড়েছে ১৪.৯৩ শতাংশ। এর ফলে কোম্পানিটির সাপ্তাহিক গেইনার তালিকায় ৮ নম্বরে ছিল। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির মোট ৪১ কোটি ১৭ লাখ ১ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে। দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি ২৯ লাখ ২৫ হাজার ২৫০ টাকার।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির দর ১৪ টাকা ১০ পয়সা ৯.৯৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৫ টাকা ৫০ পয়সায়, যা গত ২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ৬ কার্যদিবসে কোম্পানিটির দর বেড়েছে ৪৩ টাকা ৬০ পয়সা বা ৩৮.৯৬ শতাংশ।

১৯৯০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটির অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন যথাক্রমে- ১৫০ কোটি টাকা ও ২৫ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির রিজার্ভের পরিমাণ ৬ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

গত তিন প্রান্তিকেই ধারাবাহিকভাবে লোকসান দেখিয়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে লোকসান ৬৮ পয়সা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান ৬০ পয়সা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসান এক টাকা ২৮ পয়সা। বর্তমানে কোম্পানিটির পিই রেশিও নেগেটিভ, যা বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ। কোম্পানিটি গত বছর বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো ডিভিডেন্ড দেয়নি। সর্বশেষ ২০১৯ সালে ২ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছিল।

কোম্পানিটির ২ কোটি ৫২ লাখ ৪৫ হাজার শেয়ারের মধ্যে ৪৫.৩১ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ২২.০৭ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ০.২৭ শতাংশ বিদেশি এবং ৩২.৩৫ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড সার্ভিসেস : সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দর বেড়েছে ১৪.৬৩ শতাংশ। এর ফলে কোম্পানিটির সাপ্তাহিক গেইনার তালিকায় ৯ নম্বরে উঠে আসে। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির মোট ১৮ কোটি ৫৯ লাখ ৫২ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে। দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৮৮ হাজার টাকার।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির দর ৩০ পয়সা ৩.৩০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ টাকা ৪০ পয়সায়, যা গত ২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ৩ কার্যদিবসে কোম্পানিটির দর বেড়েছে এক টাকা ২০ পয়সা বা ১৪.৬৩ শতাংশ।

২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া আর্থিক খাতের ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটির অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন যথাক্রমে- ৩০০ কোটি টাকা ও ২২১ কোটি ৮১ লাখ টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির পুঁঞ্জিভুত লোকসানের পরিমাণ ২ হাজার ৭৪২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

গত তিন প্রান্তিকেই ধারাবাহিকভাবে লোকসান দেখিয়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে লোকসান ৪ টাকা ৪২ পয়সা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে লোকসান ২ টাকা ৯৬ পয়সা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে লোকসান ৭ টাকা ৩৮ পয়সা। বর্তমানে কোম্পানিটির পিই রেশিও নেগেটিভ, যা বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ। কোম্পানিটি গত ২ বছর বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো ডিভিডেন্ড দেয়নি।

সর্বশেষ ২০১৮ সালে ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। কোম্পানিটির ২২ কোটি ১৮ লাখ ১০ হাজার ২৪৬টি শেয়ারের মধ্যে ৪১.৫৪ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ২৫.৫৬ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী, ০.১৬ শতাংশ বিদেশি এবং ৩২.৭৪ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

ডেল্টা স্পিনার্স : সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির দর বেড়েছে ১৪.২৯ শতাংশ। এর ফলে কোম্পানিটির সাপ্তাহিক গেইনার তালিকায় ১০ নম্বরে ছিল। গত সপ্তাহে কোম্পানিটির মোট ৬০ কোটি ৩০ লাখ ৪৯ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে। দৈনিক গড় লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৭ লাখ ৬২ হাজার ২৫০ টাকার।

সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে কোম্পানিটির দর ৮০ পয়সা ৬.৬৭ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৮০ পয়সায়, যা গত ২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। গত ৯ কার্যদিবসে কোম্পানিটির দর বেড়েছে ২ টাকা ৮০ পয়সা বা ২৮ শতাংশ।

১৯৯৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বস্ত্র খাতের ‘বি’ ক্যাটাগরির কোম্পানিটির অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন যথাক্রমে: ১৭৫ কোটি টাকা ও ১৬৬ কোটি ৪৮ লাখ ২০ হাজার টাকা। বর্তমানে কোম্পানিটির রিজার্ভের পরিমাণ ৫১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। গত তিন প্রান্তিকেই ধারাবাহিকভাবে মুনাফা দেখিয়েছে কোম্পানিটি। এর মধ্যে প্রথম প্রান্তিকে ৩ পয়সা, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৪ পয়সা এবং তৃতীয় প্রান্তিকে ৪৮ পয়সা। বর্তমানে কোম্পানিটির পিই রেশিও ৮৭.২৭ পয়েন্ট, যা বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকিপুর্ণ বিবেচিত।

কোম্পানিটি গত ৩ বছর (২০১৮-২০২০) বিনিয়োগকারীদের ১ শতাংশ করে ক্যাশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে। কোম্পানিটির ১৬ কোটি ৬৪ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৪ শেয়ারের মধ্যে ১৯.০৫ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক, ১৪.৭২ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং ৬৬.২৩ শতাংশ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here