উৎপাদনে ফিরছে ওটিসি মার্কেটের সাত কোম্পানি

1
692

এক যুগ আগে পুঁজিবাজার থেকে তালিকাচ্যুত সাত কোম্পানির বিনিয়োগকারীরা আশার আলো দেখছে। বর্তমানে ওভার দ্যা কাউন্টার মার্কেটে (ওটিসি) থাকা এ সাত কোম্পানি উৎপাদনে ফিরেছে। ফলে কোম্পানিগুলোকে ওটিসি থেকে স্বল্পমূলধনী কোম্পানির জন্য গঠিত এসএমই বোর্ডে স্থানান্তর করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)। কোম্পানিগুলো হচ্ছে- এপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস লিমিটেড, বাংলাদেশ হোটেলস, বেঙ্গল বিস্কুট লিমিটেড, গাচি হাটা একিউকালচার ফার্মস লিমিটেড, হিমাদ্রী লিমিটেড, ওয়ান্ডারল্যান্ড টয় লিমিটেড এবং ইউসুফ ফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেড।

উৎপাদনে ফেরায় কোম্পানিগুলো লোকসান কাটিয়ে ফের মুনাফায় ফিরবে, শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ডের মুখ দেখাতে পারবে-এমনটাই প্রত্যাশা করছে বিএসইসি। ভালো পারফরমেন্স দেখাতে পারলে দ্রুত মূল মার্কেটে ফেরানো হবে কোম্পানিগুলোকে। আর তাতে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তায় দিন পার করা ৬ কোটি ৬ লাখ ৬৪ হাজার ৮০০টি শেয়ারধারী বিনিয়োগকারীর সুদিন ফিরবে।

বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ এ বিষয়ে মূল ধারার একটি নিউজ পোর্টালকে বলেন, শেয়ারবাজারে আমরা কোনো ঝামেলা রাখছি না। আমারা চেষ্টা করছি, যারা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ নিয়েছে, তাদের জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে।

তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া কোম্পানিগুলো শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড দেবে না, তা হবে না। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ওটিসি মার্কেটে থাকা কোম্পানিগুলোকে তদারকি করছি, এরই মধ্যে সাতটি কোম্পানি উৎপাদনে ফিরেছে। আর কিছু কোম্পানির উৎপাদন শুরু করবে, প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

বিএসইসির প্রভাবশালী এক কমিশনার বলেন, এ সাত কোম্পানি দ্রুত মুনাফায় ফিরবে, কোম্পানিগুলো নিজেদের সমস্যা সমাধান করে শেয়ারহোল্ডারদের বছর শেষে ডিভিডেন্ড দেবে বলে আমি মনে করি। এজন্য ওটিসি থেকে এসএমই বোর্ডে স্থানান্তর করছি। এখানে ভালো পারফরমেন্স করলে আবারও মূল মার্কেটে নিয়ে আসব।

ডিএসইর তথ্যমতে, ১৯৯৫ সালে তালিকাভুক্ত হয় এপেক্স ওয়েভিং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস লিমিটেড। কোম্পানিটি ১৩ বছর আগে অর্থাৎ ২০০৮ সালে শেয়ারহোল্ডারদের ১১ শতাংশ বোনাস শেয়ার ডিভিডেন্ড দিয়েছিল। তারপর থেকে কোম্পানিটির কোনো খোঁজই ছিল না। তবে এখন কোম্পানিটি উৎপাদন শুরু করেছে। ২০২১ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে শেয়ারটি দশমিক ৪১ পয়সা লোকসানে রয়েছে। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৩ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজারটি। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ১০ টাকা। ফলে কোম্পানির বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকায়।

বাংলাদেশ হোটেল কোম্পানি কর্তৃপক্ষ ১৯৭৮ সালে তালিকাভুক্ত হয়। কোম্পানিটি গত ৩০ বছর ধরে শেয়ারহোল্ডারদের ডিভিডেন্ড দিচ্ছে না। বৃহস্পতিবার কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ১৩ টাকা। কোম্পানিটির বর্তমান শেয়ার সংখ্যা ৪ লাখ ৫০ হাজারটি। কোম্পানিটিও উৎপাদনে ফিরছে। ২০২১ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা দেখানো হয়েছে ৫ টাকা ৮৪ পয়সা।

বেঙ্গল বিস্কুট ১৯৯৪ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। সর্বশেষ ২০১৭ সালে শেয়ারহোল্ডারদের ৫ শতাংশ বোনাস ডিভিডেন্ড দিয়েছে। ২০২১ সালে তৃতীয় প্রান্তিকে মুনাফায় ফিরেছে বেঙ্গল বিস্কুট। কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা দশমিক ৩৬ পয়সা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার সংখ্যা ৭৯ লাখ ৩৮ হাজারটি, যার বাজার মূল্য ১৬৪ টাকা। নব্বইয়ের দশকে তালিকাভুক্ত হওয়া হিমাদ্রী দীর্ঘদিন ধরে ডিভিডেন্ড দিচ্ছে না। ৭ লাখ ৫০ হাজারটি শেয়ারের এ কোম্পানিটির বৃহস্পতিবার দাম ছিল ৮ টাকা। কোম্পানিটিকে এসএমই বোর্ডে নেওয়া হচ্ছে।

১৯৯৮ সালে গাচি হাটা একিউকালচার শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। গত ২৩ বছরে শেয়ারহোল্ডারদের কোনো ডিভিডেন্ড দেয়নি কোম্পানিটি। ২০ কোটি ৭০ লাখ টাকার কোম্পানিটির বর্তমান শেয়ার সংখ্যা ২০ লাখ ৭০ হাজারটি। সবশেষ শেয়ার বিক্রি হয়েছে ৭৩ টাকা ২০ পয়সায়। ২০১৯ সালের রিপোর্ট অনুসারে কোম্পানিটি লোকসানে রয়েছে।

১৯৮৭ সালে তালিকাভুক্ত হওয়া ইউসুফ ফ্লাওয়ার মিলস লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে। ৬০ লাখ ৭০ হাজার টাকার কোম্পানিটির ৬ লাখ ৬ হাজার ৮০০টি শেয়ার রয়েছে। বর্তমানে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ২৩ টাকা ৮০ পয়সা। শেয়ারহোল্ডারদের সর্বশেষ ২০১৮ সালে ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার ডিভিডেন্ড দিয়েছিল কোম্পানিটি। অপরদিকে এক কোটি টাকা মূলধনে ১৯৯৬ সালে তালিকাভুক্ত হয় ওয়ান্ডারল্যান্ড টয় লিমিটেড। বর্তমানে কোম্পানিটির ১ কোটি শেয়ার রয়েছে। প্রতিটি শেয়ারের দাম ১৮ টাকা। ফলে কোম্পানির বাজার মূলধন দাঁড়িয়ে ১৮ কোটি টাকা। লোকসানে থাকা কোম্পানিটি এক দশকের বেশি সময় ধরে ডিভিডেন্ড দেয়নি।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here