যারা পারফরম্যান্স করছে না তাদের কেন বেশি ফি নিতে দেব

0
164

​যেসব মিউচুয়াল ফান্ড ও সম্পদ ব্যবস্থাপক ভালো পারফরম্যান্স করছে তাদের উৎসাহিত করা হবে। কিন্তু যারা পারফরম্যান্স করছে না তাদের কেন এত বেশি ফি নিতে দেব বলে মন্তব্য করেছেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

তিনি বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ-২০২১ উদযাপন উপলক্ষে অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিজ অ্যান্ড মিউচুয়াল ফান্ডস (এএএমসিএমএফ) আয়োজিত ‘ইনস্টিটিউশনাল রোল ইন সাসটেইনেবল ফাইন্যান্সিং’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ও ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আরফান আলী। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল হোসেন, সিডব্লিউটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনিজা চৌধুরী এবং অ্যালায়েন্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খন্দকার আসাদুল ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অল্টারনেটিভ ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের সিইও এবং ম্যানেজিং পার্টনার আজার চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এএএমসিএমএফের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান তাহের ইমাম।

বিএসইসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, মিউচুয়াল ফান্ড অনেক ভালো পারফরম্যান্স করছে। এতে আমরা খুশি। আমরা খাতটিকে অনেক দূর এগিয়ে নিতে চাই। এক্ষেত্রে যত ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া দরকার, তার সব দিতে চাই। খাতটিকে অনেক বড় দেখতে চাই।

বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমানের বক্তব্যের প্রসঙ্গ উল্লেক করে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, মিউচুয়াল ফান্ডের আকার মাত্র ১৫ হাজার কোটি টাকা। এত ছোট কেন হবে। আপনারা আমাদের বলেন, কী করতে হবে, কোথায় সমস্যা। আমরা আপনাদের আইনগতভাবে সব সহযোগিতা করব। পুঁজিবাজারে মিউচুয়াল ফান্ডের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের দায়িত্বরতদের কাছ থেকে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। মিউচুয়াল ফান্ডের অনেক কিছু করার আছে। এ খাতের প্রচার না থাকা সবচেয়ে বড় সমস্যা। ফান্ডগুলোর প্রচারণায় যদি অনেক খরচ মনে করেন তাহলে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে করেন। ভারতে মিউচুয়াল ফান্ড জনপ্রিয় এবং ফান্ডের আকার অনেক বড়। আমাদের দেশের ফান্ডগুলোকেও বড় করতে প্রচারণায় নামতে হবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান আরো বলেন, এ বছর ফান্ডগুলো অনেক ভালো রিটার্ন দিয়েছে। তারা অনেক ভালো করছে। এতে আমরা খুশি। কাজ করতে গেলে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হতেই পারে। তবে কথা বলে তা সমাধান করে নিতে হবে। এক থাকতে হবে। গত সপ্তাহেও মিউচুয়াল ফান্ড খাত নিয়ে কমিশন আলোচনা করেছে। কীভাবে এ খাতকে সহযোগিতার মাধ্যমে এর আকার ১০ গুণ করা যায়, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেক ব্যাংকের সুযোগ থাকলেও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করে না। আমি তাদের এ খাতে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত করব। এ খাতে এ বছর গড়ে ১০ শতাংশের ওপর রিটার্ন এসেছে। মিউচুয়াল ফান্ড ও বন্ডে সহায়তা দেয়ার বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান সম্মতি জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে এএএমসিএমএফের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান তাহের ইমাম বলেন, এ বছর মিউচুয়াল ফান্ড ভালো করেছে। ডিভিডেন্ড গেইন হিসাবে এ বছর ইকুইটি বা শেয়ারভিত্তিক মিউচুয়াল ফান্ডগুলো সম্মিলিভাবে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে। বিএসইসি আমাদের ভালো লভ্যাংশ দেয়ার জন্য উৎসাহিত করেছে। মিউচুয়াল ফান্ডগুলো এ ক্যাটাগরির বড় ও মাঝারি কোম্পানির শেয়ারে সিংহভাগ বিনিয়োগ করেছে। ফান্ডগুলোর পোর্টফোলিওতে গড়ে ৩০ থেকে ৫০টি কোম্পানির শেয়ার থাকে। কাজেই একটি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করে অনেক বেশি বৈচিত্র্য পাওয়া যাচ্ছে, যেটা নিজের পোর্টফোলিওতে বিনিয়োগ করে সম্ভব নয়।

ব্যাংক এশিয়ার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরফান আলি পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলো একসঙ্গে কাজ করবে বলে জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here