তদন্তে ফেঁসে যাচ্ছে ৯ কোম্পানির কারসাজিকারিরা

0
491

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় কোম্পানির শেয়ার দর হু হু করে বাড়য় কোম্পানিগুলোর প্রতি নজর পড়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থার। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখার জন্য গঠণ করা হয় তদন্ত কমিটি। সেই তদন্তে ফেঁসে যাচ্ছে এই ৯ কোম্পানির কারসাজিকারিরা। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানিগুলোর শেয়ার নিয়ে কারসাজি করার কিছু আলামত কমিটি খুঁজে পেয়েছে। আলামতগুলো আরও নিখুঁতভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে কোম্পানিগুলোর কারসাজিতে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের শুনানি করা হবে।

কোম্পানিগুলো হচ্ছে- বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, ফু-ওয়াং সিরামিক, পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, ন্যাশনাল ফিড মিল, ঢাকা ডাইং, জিবিবি পাওয়ার, এমারেল্ড অয়েল এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড।

এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম শেয়ারনিউজকে বলেন, হঠাৎ কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর অস্বাভাবিক বৃদ্ধির বিষয়টি বিএসইসির নজরে আসে। কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বৃদ্ধিতে কারসাজি হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে বলা যাবে কারসাজি হয়েছে কি না।

উল্লেখ্য, গত ৩০ আগস্ট শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত নয় কোম্পানির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিএসইসি। কমিটিকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন কমিশনের কাছে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গঠিত চার সদস্যের কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিএসইসির পরিচালক শেখ মাহবুব উর রহমানকে। এছাড়া কমিটিতে আছেন বিএসইসির সহকারী পরিচালক জিয়াউর রহমান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) উপ-মহাব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া ও সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) অ্যাপ্লিকেশন সাপোর্ট বিভাগের প্রধান মইনুল হক।

গত ছয় মাসে কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের দাম বৃদ্ধি হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং লিমিটেডের শেয়ার ৯৪ টাকা থেকে ৪৬৪ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধির কারণ জানতে আলাদা দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি। ডিএসইর তথ্যমতে, গত ৪ এপ্রিল আনোয়ার গ্যালভানাইজিংয়ের শেয়ারের দাম ছিল ৯৪ টাকা ৯০ পয়সা। এরপর থেকেই কোম্পানিটির শেয়ার দর বাড়তে শুরু করে এবং ৩ অক্টোবর সর্বোচ্চ ৪৬৪ টাকায় দাঁড়ায়।

পেপার প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং ওভার দ্যা কাউন্টার মার্কেট থেকে ১৭ টাকা মূল্য নিয়ে মূল মার্কেটে আসে। কোম্পানিটির শেয়ার ৯ সেপ্টেম্বর বিক্রি হয়েছে ২৩৫ টাকা ৩০ পয়সায়। শেয়ারটির দাম বৃদ্ধির পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছিল না। শুধু কারসাজির মাধ্যমে শেয়ারের দাম বাড়ানো হয়েছে।

চলতি বছরের ৪ মে ঢাকা ডাইংয়ের শেয়ারের দাম ছিল ৮ টাকা ৮০ পয়সা। সেখান থেকে ২০ টাকা বেড়ে শেয়ারটি বিক্রি হয়েছে ২৮ টাকা ১০ পয়সায়। একইভাবে ন্যাশনাল ফিড মিলসের শেয়ার ১৬ টাকা থেকে ৪১ টাকা ৯০ পয়সায় তোলা হয়েছে। ফুয়াং সিরামিকের শেয়ার ৯ টাকা থেকে বেড়ে ২৭ টাকা ৯০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া বিকন ফার্মার শেয়ার ছয় মাস ছিল ১০৮ টাকার আশেপাশে। সেখান থেকে বেড়ে গত ১২ অক্টোবর দাঁড়িয়েছে ২৪৫ টাকায়। জিবিবি পাওয়ারে শেয়ার ২৭ টাকা থেকে বেড়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর দাঁড়িয়েছে ৫০ টাকা ২০ পয়সায়। ১৬ টাকার এমারেল্ড ওয়েলের শেয়ার বিক্রি হয়েছে ৪২ টাকায় এবং ১০০ টাকার নিচে থাকা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার বিক্রি হয়েছে ১৬৫ টাকায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here