ছয় মাসে ১৫০১ কোটি টাকা বাজারমূল্যে বেড়ে ফরচুন সুজের

0
161
HTML tutorial

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত চামড়া খাতের কোম্পানি ফরচুন সুজের শেয়ার দর লাগামহীনভাবে বেড়েছে। এই ধরনের বৃদ্ধি নিয়ে কোম্পানির শেয়ারধারী বিনিয়োগকারীদের মাঝে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। যা এই কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ ক্ষেত্রে সুখবর নয় বলে জানিয়েছেন পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা। অপরদিক এই কোম্পানির শেয়ার দর কেন বাড়ছে, তার প্রকৃত কারণ জানে না ফরচুন সুজ কর্তৃপক্ষ।

গত ছয় মাসে ফরচুন সুজ মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজারমূল্যে বেড়েছে ১ হাজার ৫০১ কোটি ৫১ লাখ টাকা। অপরদিক এই সময়ে ধারণ করা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের মাধ্যমে বাজারমূল্যে বেড়েছে ৮২০ কোটি ১২ লাখ টাকা। ফরচুন সুজে শেয়ার দর বৃদ্ধির প্রসঙ্গে মুঠোফোনে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছ‍ুক কোম্পানির এক কর্মকর্তা বলেন, শেয়ার দর বৃদ্ধি কারণ জানি না। এই মুহূর্তে কোম্পানির শেয়ার বৃদ্ধির ব্যাপারে কিছু বলা যাবে না।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বুধবার কোম্পানির শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১১৭ টাকা। এর আগে ২ মে কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ২০ টাকা। গত ছয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ৯৭ টাকা। ফরচুন সুজের মোট শেয়ার সংখ্যা ১৫ কোটি ৪৭ লাখ ৯৫ হাজার ৭০৪টি। সেই হিসাবে গত বুধবার কোম্পানিটির মোট শেয়ারের বাজারমূল্যে হয়েছে ১ হাজার ৮১১ কোটি ১০ লাখ ৯৭ হাজার ৩৬৮ টাকা। এর আগে ২ মে মোট শেয়ারের বাজারমূল্যে ছিল ৩০৯ কোটি ৫৯ লাখ ১৪ হাজার ৮০ টাকা। এই সময়ের ব্যবধানে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের বাজারমূল্যে বেড়েছে ১ হাজার ৫০১ কোটি ৫১ লাখ ৮৩ হাজার ২৮৮ টাকা।

আরও জানা যায়, ফরচুন সুজের মোট শেয়ারের মধ্যে ৫৪ দশমিক ৬২ শতাংশ ধারণ করেছে সাধারণ বিনিয়োগকারী। সেই হিসেবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের বাজারমূল্যে বেড়েছে ৮০২ কোটি ১২ লাখ ৯৩ হাজার ১১১ টাকা। লাগামহীন ফরচুন সুজের শেয়ার দর বাড়ার কারণ জানার জন্য সংশ্লিষ্ট রেগুলেটরদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।

ফরচুন সুজের প্রথম কোয়টারে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২১) শেয়ার প্রতি সম্পদ (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৫২ টাকা। যা গত বুধবার শেয়ার প্রতি সম্পদের সাড়ে ৭গুন বেশি দরে কেনাবেচা হয়েছে। মানে শেয়ার প্রতি সম্পদের ১৫ টাকা শেয়ার ক্রেনাবেচা হয়েছে ১১৭ টাকা দরে। এই ধরনের অতিমূল্যে শেয়ারটির বেচাকেনা বাকা চোখে দেখছেন অনেকে।

শেয়ার অতি উচ্চমূল্যে কেনাবেচার ক্ষেত্রে বিশেষ সর্তকতা জানিয়ে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেছেন, পুঁজিবাজারে অতিমূল্যে শেয়ার না কেনা উত্তম। কারণ অতিমূল্যে শেয়ার ক্রয় করা হলে সেই ক্ষেত্রে লোকসান গুনার ঝুঁকি বাড়ে।

দেখা যায়, গত ৩০ আগস্ট কোম্পানির মোট শেয়ারের ১৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ শেয়ার ধারন করেছিল প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। শেয়ার ধারন কমে গত সেপ্টেম্বরে দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ। অপরদিক গত ৩০ আগস্ট কোম্পানির মোট শেয়ারের ৫১ দশমিক ২৪ শতাংশ ধারন করেছিল সাধারন বিনিয়োগকারী। শেয়ার ধারন বেড়ে গত সেপ্টেম্বরে দাঁড়িয়েছে ৫৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিকদের ধারন করা ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ শেয়ার উচ্চমূল্যে সাধারন বিনিয়োগকারীদের কৌশলে ধরিয়ে দিয়েছে। এখন শেয়ারটির দরে পতন হলে সাধারন বিনিয়োগকারী কাছে গিয়ে পরবে।

উচ্চমূল্যে শেয়ার ধারণ প্রসঙ্গে আবু আহমেদ বলেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বুঝে শুনে বিশ্লেষন মাধ্যমে পুঁজিবাজারে শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করে। তারা এলোমেলো শেয়ার কিনেন না। শেয়ার ক্রয়বিক্রয়ে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সাধারন বিনিয়োগকারীদের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিকরা বেশি অনুসন্ধান প্রখর হয়ে থাকে। তাই কোন কোম্পানি শেয়ার ধারনে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কমতে থাকলে সেই কোম্পানির শেয়ার ক্রয় বিক্রয়ে বিশেষ সর্তক থাকতে বলেন তিনি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, পুঁজিবাজারে কোনো কোম্পানির মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) ১৫ পয়েন্ট ছাড়ালেই তা বিনিয়োগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও (বিএসইসি) মার্জিন ঋণের যোগ্যতা হিসেবে সর্বোচ্চ ৪০ পিই রেশিও বেঁধে দিয়েছে। এ হিসেবে ৪০ পর্যন্ত পিই ধারীর শেয়ার বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ বলে জানায় বিএসইসি। সেই হিসাবে ফরচুন সুজ গত ২৭ অক্টোবর অডিটেড পিই রেশিও দাড়িয়েছে ১৪৬ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট ও আন অডিটেড ২২ দশমিক ৬৯ পয়েন্ট ।

জানা যায়, ফরচুন সুজ কোম্পানিটির প্রথম কোয়টারে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২১) শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে দশমিক ৪৩ টাকা। একইসঙ্গে ওই কোয়টারে শেয়ার প্রতি সম্পদ হয় ১৫ দশমিক ৫২ টাকা এবং নগদ প্রবাহ দশমিক ৮০ টাকা। বর্তমানে ফরচুন সুজের মোট শেয়ারের ৩০ দশমিক ৯৩ শতাংশ উদ্যোক্তা পরিচালক ধারণ করেছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারী ৫৪ দশমিক ৬২ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছে।

HTML tutorial

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here