জেএমআই হসপিটালের আইপিও অনুমোদন

0
106
7089

আলোচিত শাহেদ, সাবরিনাদের মতো করোনার মাস্ক কেলেঙ্কারীতে তুমুল বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড। আর সেই বিতর্কিত কোম্পানিটিকেই পুঁজিবাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের লক্ষ্যে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে বিডিং অনুমোদন দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মূখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের থেকে ৭৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করতে চায়। এ জন্য রোড শো করেছে কোম্পানিটি।

এর আগে কোম্পানিটির আইপিও আবেদন গত বছরের ৩০ জুলাই বাতিল করে দিয়েছিল কমিশন। কিন্তু সেই কমিশনই এখন কোম্পানিটিকে আনতে বিডিং অনুমোদন দিল।

নকল মাস্ক সরবরাহের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও নজরে আসে। তিনি এক ভিডিও কনফারেন্সে বলেন, এন-৯৫ লেখা বক্স, কিন্তু ভিতরের যে জিনিসটা, সেটা দেখা দরকার। এখানে নজর দেন। লেখা এন-৯৫ থাকলেও ভিতরে সবসময় সঠিকটা যাচ্ছে না। কেউ যদি এরকম কিছু করে থাকে এবং তার সাপ্লায়ার কে? বাবুনগর হাসাপাতালে এমন গেছে। ওটাতো করোনাভাইরাসের জন্য ডেডিকেটেড। এমন যদি কিছু কিছু জায়গায় হয়, সেটাতো ঠিক না। তাই যাদেরকে এইসব পণ্য সরবরাহের ব্যবসা দেওয়া হয়, সেদিকে নজরদারি বাড়ানো দরকার। কারণ বক্স ঠিক থাকলেও ভিতরে ঠিক থাকছে না। তাই যিনি পণ্য গ্রহণ করবেন, তিনি যেনো দেখেশুনে নেন, আমি শুধু এটুকুই বলতে চাই।

জেএমআই হসপিটাল বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে পুঁজিবাজার থেকে টাকা উত্তোলন করতে ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে রোড শো করে। ওই টাকা দিয়ে জমি ক্রয়, ভবন তৈরী, মেশিনারীজ ক্রয়, ঋণ পরিশোধ ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করতে চায়। এই টাকা উত্তোলনের কাজে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট এবং জনতা ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য ২০ হাজার ৬০০ পিস মাস্ক এন-৯৫ হিসেবে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে (সিএমএসডি) সরবরাহ করেছিল জেএমআই হসপিটাল রিক্যুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড। দুটি চালানের মাধ্যমে এই মাস্ক সরবরাহ করেছিল। প্যাকেটের মোড়কে এন-৯৫ মাস্ক লেখা থাকলেও ভিতরে পাওয়া যায় নকল মাস্ক। যা কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের অনুসন্ধানে উঠে আসে। ফলে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের ভাণ্ডার ও রক্ষণের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ এ নিয়ে জেএমআই হসপিটালকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জবাব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বিষয়টি স্বীকার করে ওইসময় জেএমআই হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুর রাজ্জাক চিঠির জবাবে জানান, নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে সংকটময় সময়ে মাস্কের সংকট দেখা দিয়েছে। জেএমআই হসপিটাল স্বপ্রণোদিত হয়ে মাস্ক তৈরির চেষ্টা করছে, যা এখনো প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট পর্যায়ে আছে। যে সময় মাস্কগুলো সরবরাহ করা হয়, তখনো দেশে এন-৯৫-এর স্পেসিফিকেশন সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন ছিল না। সাম্প্রতিক পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য জেএমআই হসপিটাল রিকুইজিট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে বেশকিছু পণ্য সরবরাহ করে। সরবরাহকৃত পণ্যের সঙ্গে ভুলক্রমে প্রডাক্ট ডেভেলপমেন্ট পর্যায়ে তৈরীকৃত ২০ হাজার ৬০০ পিস এন-৯৫ মাস্ক অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা এন-৯৫-এর স্পেসিফিকেশনের সঙ্গে ‘কমপ্লাই’ করে না।

চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও উপরোক্ত ব্যাখ্যা সদয় বিবেচনাপূর্বক সরবরাহকৃত মাস্ক ফেরত দিয়ে আমাদের অনিচ্ছাকৃত সম্পাদিত ভুলের দায় হতে মুক্তি দানে বাধিত করবেন।’

নকল মাস্ক সরবরাহের অভিযোগে জেএমআইর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. আবদুর রাজ্জাককে পুলিশ গ্রেফতার করে। তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে বন্দী ছিলেন। তারপর জামিনে মুক্তি পান।

উল্লেখ্য কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ৯০ কোটি টাকা। কোম্পানিটির কাট অফ প্রাইসের ২০ শতাংশ ডিসকাউন্টে সাধারণ বিনিয়োগকারীর নিকট শেয়ার ইস্যু করবে এবং এখন থেকে ইস্যুয়ার কোম্পানি কোনো ধরণের ইন্টার কোম্পানি লোন অনুমোদন করতে পারবে না।

আরো উল্লেখ্য, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পূর্বে কোম্পানিটি কোন প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা, অনুমোদন বা বিতরণ করতে পারবে না মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here