বীমা খাত ছাড়া আজও দরপতনের ধারায় পুঁজিবাজার

0
184
6995

সপ্তাহের শুরুটা হয়েছিল দরপতনে। সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবারও অধিকাংশ শেয়ার দর হারিয়ে কেনাবেচা হচ্ছে। তাতে মূল্যসূচকও নিম্নমুখী। বীমা ছাড়া বাকি সব খাতের শেয়ারদর নিম্নমুখী। পরিস্থিতি বুঝে উঠতে না পারায় অনেক বিনিয়োগকারী নতুন করে শেয়ার না কিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। এতে শেয়ার কেনাবেচাও কমেছে।

লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা শেষে দুপুর ১২টায় আজকের প্রধান পুঁজিবাজার ডিএসইতে লেনদেনে আসা ৩৭৭ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৫২টিই দর হারিয়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এ সময় দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল ৮২ শেয়ার এবং দর অপরিবর্তিত অবস্থায় ছিল ৪৪টি।

যে ৮২ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল, তার ৫০টিই ছিল বীমা খাতের, যেখানে এ খাতের মোট কোম্পানি ৫২টি। খাতটির সার্বিক দরবৃদ্ধির হার ছিল ২ শতাংশের বেশি। এমনকি দরবৃদ্ধির শীর্ষ ৩০ কোম্পানির মধ্যে ২৭টিই ছিল বীমা খাতের।

বীমার শেয়ারগুলোর ২ থেকে ৮ শতাংশ দর বেড়ে কেনাবেচা হতে দেখা গেছে। এসব কোম্পানির শেয়ার তুলনামূলক কম হওয়ায় এর খুব বেশি প্রভাব মূল্যসূচকে ছিল না। ফলে অধিকাংশ শেয়ারের দর হারিয়ে কেনাবেচার প্রভাবে প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩৫ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৭২০ পয়েন্টে অবস্থান করতে দেখা যায়।

সূচকের নিম্নমুখী ধারায় বেশি প্রভাব রাখছে বেক্সিমকো লিমিটেডের শেয়ারের দরহ্রাস। বুধবারের তুলনায় এক টাকা ৯০ পয়সা দর হারিয়ে এ সময় শেয়ারটি ১৫৪ টাকা ৩০ পয়সায় কেনাবেচা হচ্ছিল। এতে ডিএসইএক্স হারায় সাড়ে ৪ পয়েন্ট।

এছাড়া লাফার্জ-হোলসিম, বিট্রিশ আমেরিকান টোবাকো বাংলাদেশ, আইএফআইসি ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মাসহ বৃহৎ বাজার মূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর হ্রাসও সূচককে নিম্নমুখী করছে। দিনের লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা শেষে টাকার অঙ্কে ডিএসইতে মোট শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ ৩৩৩ কোটি ছাড়িয়েছিল।

বাজারের নিম্নমুখী ধারার বিষয়ে বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউস কর্মকর্তারা জানান, প্রায় প্রতি বছরের শেষে ব্যাংক-বীমা-আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লাভে থাকা শেয়ার বিক্রি করে মুনাফা তুলে নেয়। এতে বছর শেষে কোম্পানির নিট মুনাফা বাড়ে। এ বছরও তেমনটি হয়ে থাকতে পারে।

তবে বড় কারণ হিসেবে তারা বলেন, বাজারে জুয়াড়ি চক্রগুলো কম শেয়ার কেনাবেচা করছে। অর্থাৎ তারা অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এদের দেখাদেখি শেয়ার কেনাবেচা করেন বলে তারাও কোনো দিশা পাচ্ছেন না। এ কারণেই বাজারের এ অবস্থা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here