পুঁজিবাজারে ৩০ শতাংশ শেয়ারধারণে ব্যর্থ ২৪ কোম্পানি

0
563
HTML tutorial

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সকল কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ শেয়ারধারণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত বছরের ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ২৫টি কোম্পানি বিএসইসির এ নির্দেশনা পরিপালনে ব্যর্থ হয়েছে। কোম্পানিগুলোকে সম্মিলিতভাবে শেয়ারধারণের জন্য চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত একমাস সময় দেয় বিএসইসি। তবে বিএসইসি’র সর্বশেষ সময়েও ২৪টি কোম্পানি এ নির্দেশনা পরিপালন করতে পারেনি।

এ পরিস্তিতিতে, ২৪টি কোম্পানির ব্যর্থতার জন্য পরবর্তী করণীয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি)। বিশেষ করে যেসব কোম্পানি ৩০ শতাংশ শেয়ারধারণের বিষয়ে আগ্রহী, তাদেরকে সহায়তা করার বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করছে কমিশন।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, ২৫টি কোম্পানির মধ্যে কেবলমাত্র ওষুধ ও রাসায়ন খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি অ্যাডভেন্ট ফার্মার উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা সম্মিলিতভাবে পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা পরিপালন করেছে। বাকি ২৪টি কোম্পানির মধ্যে ১১টি কোম্পানির এ নির্দেশনা পরিপালনে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। তবে এ নির্দেশনা পারিপালনের জন্য তারা বিভিন্ন মেয়াদে বিএসইসি’র কাছে সময় চেয়ে আবেদন জানিয়েছে। আর ৫টি কোম্পানি নির্দেশনা পরিপালন না করার কারণ এবং তাদের পরিকল্পনার কথা বিএসইসিকে জানিয়েছে। এছাড়া বাকি ৮টি কোম্পানি নির্দেশনা পরিপালন না করার কারণ বা সময় চেয়ে মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) পর্যন্ত বিএসইসিতে কোনো চিঠি পাঠায়নি।

বিএসইসি’র মতে, যেসব কোম্পানির কিছু সংখ্যক মালিক রয়েছে, তাদেরকে সহায়তা করা হবে। বিশেষ করে কোম্পানিটির অন্যান্য যেসব শেয়ারহোল্ডার রয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ আগ্রহী হলে তাকে পরিচালনা পর্ষদে সংযুক্ত করা হবে। সেসব কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। তবে ৩০ শতাংশ শেয়ারধারণের জন্য কোম্পানিকে বেশি দামে শেয়ার কিনতে হচ্ছে। ফলে অনেক কোম্পানির ওই দামে শেয়ার কিনতে পারছে না বলে বিএসইসিকে অবহিত করেছে। ফলে কোম্পানিগুলোর আগ্রহ বিবেচনায় তাদেরকে সহায়তা করা হবে। তবে যেসব কোম্পানি ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার বিষয়ে চেষ্টা করছে না, তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রকৃত কারণ ছাড়া কোম্পানিগুলোর ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থতার জন্য আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে যেসব কোম্পানির সম্মিলিতভাবে শেয়ার ধারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তাদের জন্য পুনরায় সময় বাড়ানো হবে কি-না সে বিষয়টি নিয়ে ভাবছে কমিশন।

৩০ শতাংশ শেয়ারধারণের জন্য সময়ের আবেদন করা কোম্পানিগুলো হলো- অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যালস, অগ্নি সিস্টেমস, আলহাজ্জ টেক্সটাইল মিলস, অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স, আজিজ পাইপস, ডেল্টা স্পিনার্স, ফু-ওয়াং সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ, ফু-ওয়াং ফুডস, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, ফার্মা এইডস ও সালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ।

শেয়ারধারণের পরিকল্পনার কথা জানানো কোম্পানিগুলো হলো- ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফাইন ফুডস, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্ক, কাট্টালি টেক্সটাইল ও সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ।

শেয়ারধারণের কোনো তথ্য প্রদান না করা কোম্পানিগুলো হলো- সেন্ট্রাল ফার্মাসিউটিক্যালস, সি অ্যান্ড এ টেক্সটাইলস, ফ্যামিলিটেক্স বিডি, ফাস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, মিথুন নিটিং অ্যান্ড ডায়িং, অলিম্পিক এক্সেসরিজ, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স ও রতনপুর স্টিল রি-লোরিং মিলস (আরএসআরএম)।

এ বিষয়ে জানতে চাই বিএসইসি’র কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিষয়ে কোম্পানিগুলো অনেক দূর এগিয়েছে। তবে কোম্পানিগুলোকে বেশি দামে শেয়ার কিনতে হচ্ছে। ফলে অনেকেই ওই দামে কিনতে পারছেন না। তবে অধিকাংশ কোম্পানিগুলোর মধ্যে সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিষয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, যেসব কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করার বিষয়ে চেষ্টা করছে না, তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রকৃত কারণ ছাড়া কোনো কোম্পানি সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ না করে যদি ছলচাতুরি করে, তাহলে তাদের মুক্তি নেই। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যেসব কোম্পানির কিছু সংখ্যক মালিক রয়েছে, আর কিছু সংখ্যক নেই, তাদেরকে আমরা সহায়তা করব। বিশেষ করে কোম্পানিটির অন্যান্য যেসব শেয়ারহোল্ডার রয়েছে, তাদের মধ্যে কেউ আগ্রহী হলে তাকে আমরা পরিচালনা পর্ষদে সংযুক্ত করব। তবে সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের জন্য আর সময় বাড়ানো হবে কি-না সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

ট্রেডার বাংলাদেশ, ১৮ জানুয়ারি, ২০২২

HTML tutorial

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here