‘পুঁজিবাজারে চলতি বছরে ভালো কিছু কোম্পানি আসবে’ বিএসইসি চেয়ারম্যান

0
274

চলতি বছরই ভালো কিছু কোম্পানি পুঁজিবাজারে আসবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম।

রোববার ( ১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফারস হােটেলে অনলাইন বিজনেস নিউজপাের্টাল বিজনেস আওয়ার২৪.কম আয়ােজিত “পুঁজিবাজারে ভালাে কোম্পানির তালিকাভুক্তির প্রতিবন্ধকতা ও সমাধানের উপায়” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, কোন কোম্পানিকে জোর করে পুঁজিবাজারে আনা ঠিক হবেনা। তাদেরকে বুঝিয়ে এখানে আনতে হবে। কোম্পানিগুলোকে এখানে আসতে পেইড আপ ক্যাপিটাল বেধে দিয়ে জোর প্রয়োগ করা ঠিক হবেনা। বরং তাদেরকে পুঁজিবাজারের ভালো দিকগুলো নিয়ে বুঝিয়ে এখানে আনতে হবে। আমরা সেই চেষ্টা করেছি। আসা করছি পরবর্তী কোয়াটার থেকেই এর একটা সুফল দেখতে পাবেন। আপনারা যে ভালো কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে প্রত্যাশা করতেছেন তাদেরকে শিগগিরই দেখতে পারবেন।

তিনি বলেন, আমরা এসএমই সেক্টরে এতদিন গুরুত্ব দিতাম না। এখন আমরা এসএমই’র জন্য আলাদা একটা প্লাটফর্ম করে দিয়েছি। এখানে লিস্টিং হওয়ার মাধ্যমে তারা কর্পোরেট আচার-আচারন শিখতে পারছে। পরবর্তীতে ভালো পার্ফামেন্স দেখিয়ে এখান থেকেই তারা মূল মার্কেটে আসতে পারবে। আমরা এখই তাদেরকে এই সুযোগটা দিচ্ছি।

এই সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসােসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ ছায়েদুর রহমান।

বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, আমাদের অর্থনীতর সঙ্গে পুঁজিবাজারের কোন মিল আমি খুঁজে পাইনা। ২০১০ সালের ধসের সময় দেশের অর্থনীতির অবস্থা তেমন ভালো ছিলোনা। কিন্তু এখন দেশের অর্থনীতি অনেকে এগিয়ে গেছে। সেই তুলনায় আমাদের পুঁজিবাজারে তেমন কোন উন্নয়ন হয়নি।

তিনি বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানিগলো কেন আসবে? ব্যাংকিং সেক্টর ছেড়ে কেন আসবে? একটা ভালো কোম্পানিকে লোন দেয়ার জন্য ব্যাংক যেখানে মুখিয়ে আছে, সেখানে পুঁজিবাজারের মত এত বাধাগ্রস্ত জায়গায় কেন আসবে? এখানে আমার মনে হয় ব্যাংকিং সেক্টরে তাদের জন্য যতদিনে সুযোগ-সুবিধা কমিয়ে দেয়া না হবে ততদিন তারা পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী হবেনা। তাছাড়া পুঁজিবাজারে আসতে নানা ধরনের আইনি জটিলতা পেরিয়েই তাদেরকে এখানে লিস্টেড হতে হয়। এই জায়গাটাকে সহজ করতে হবে। ভালো কোম্পানিগুলোকে আনতে সহজ ও উপযোগী রাস্তা করে দিতে হবে। তাহলেই তারা পুঁজিবাজারে আসতে আগ্রহী হয়ে উঠবে বলে মনে করছি।

তিনি বলেন, আমরা শত চেস্টা করেও ফরেন ইনভরস্টমেন্ট কিংবা বিদেশি এফডিআর আনতে পারছি না। সেক্ষেত্রে তাদেরকে পুঁজিবাজারে লিস্টেড করানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করাটাও হয়তো ঠিক হবেনা। কেননা এই চাপ প্রয়োগে বাংলাদেশে ব্যবসার করার ক্ষেত্রে আরো অনাগ্রহী হয়ে উঠতে পারে কোম্পানিগুলো। জোর করে এদেরকে আনা যাবেনা, বরং তাদেরকে বুঝিয়ে এখানে আনার চেষ্টা করতে হবে।

বিএমবিএ প্রেসিডেন্ট ছায়েদুর রহমান বলেন, বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেয়া ছাড়া কোন সেক্টরের উন্নয়ন সম্ভব না। কেউ যদি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত করে ফেলে, তারপর কেন সে তার প্রতিষ্ঠানে বাহির থেকে একজন ব্যবসায়ীক পার্টনার (বিনিয়োগকারী) হিসেবে নিবে। যদি ভালো কোম্পানিকে পুঁজিবাবাজারে আনতে হয়, তাহলে অবশ্যই তাকে ভালো সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৪০ শতাংশেরও বেশি এসেছে ফিন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান। তারা যে সেচ্ছায় এখানে এসেছে তাও নয়, তারা আইনের বাধ্য বাধকতার কারণে এসেছে। কিন্তু ভালো কোম্পানি আসার জন্য তো আইনের বাধ্য বাধকতা নেই। তাই ওই সমস্ত কোম্পানিগুলোকে মার্কেটে আনতে হলে তাদের জন্য ভালো সুযোগ-সুবিধা রেখে আইনের সংশোধন আনা উচিত।

এছাড়াও তিনি বলেন, আমাদের দেশে ব্যবসা করা বিদেশী কোম্পানিগুলোর মধ্যে মাত্র ৮টি প্রতিষ্ঠান শেয়ারবাজারে তালিকাভূক্ত রয়েছে। কিন্তু আমাদের শেয়ারবাজারের উন্নয়নের জন্য আরো অনেক বেদেশি কোম্পানি আসা দরকার ছিলো। যেখানে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ইন্ডিয়াতে কোন বিদেশি কোম্পানি তালিকাভূক্ত হলে তাদের শেয়ারবাজারে আসতে বাধ্য বাধকতা রয়েছে। তাদের দেশের বিনিয়োগকারীদের নিয়েই দেশটিতে ওইসব বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ব্যবসা করতে হবে। সেখানে আমরা কেন বিদেশি কোম্পানিগুলোকে পুঁজিবাজারে আনতে এই আইনটা সংশোধন করতে পারিনা।

ট্রেডার বাংলাদেশ, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here