রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে চায় ন্যাশনাল টি

0
368

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়াত্ব কোম্পানি ন্যাশনাল টি লিমিটেড রাইট শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে পরিশোধিত মূলধন বাড়াতে চায়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মূলধন বৃদ্ধির নির্দেশনা পরিপালন করতে কোম্পানিটি রাইট শেয়ার ইস্যু করবে।

চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কাছে রাইট শেয়ার ইস্যু করার অনুমোদনও চেয়েছে। বিএসইসির অনুমোদন পেলে কোম্পানিটি রাইট শেয়ার ইস্যু করার পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

১৯৭৮ সালে নিবন্ধিত এবং ১৯৭৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশে চা ও রাবার গাছ লাগানো, চাষ, উৎপাদন এবং বিক্রির ব্যবসা পরিচালনা করছে। কোম্পানির বার্ষিক গড় উৎপাদন প্রায় ৫.২ মিলিয়ন কেজি এবং এর বড় অংশ বিক্রি হয় চট্টগ্রাম নিলাম বাজারের মাধ্যমে।

২০০০ সালে ন্যাশনাল টি তার ডিলারদের মাধ্যমে স্থানীয় বাজারে চা বিক্রি শুরু করে। এটির নিবন্ধিত অফিসে একটি বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে, যা সকল গ্রাহকদের জন্য উন্মুক্ত। কোম্পানির ১২টি চা বাগানে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার স্থায়ী শ্রমিক রয়েছে। এদের বেশির ভাগই জাতিগোষ্ঠীর। তারা তাদের আশ্রিতদের সাথে বাগানে থাকে।

কোম্পানিটি ২০০০ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত মুনাফায় ছিল। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে গত দুই বছর ধরে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি লোকসানের মুখে পড়ে। গত তিন বছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৯ সালে কোম্পানিটি শেয়ার প্র্রতি আয় (ইপিএস) করেছিল ২০ টাকা ৬৭ পয়সা। কিন্তু ২০২০ সালে শেয়ার প্রতি লোকসান করেছে ৫৫ টাকা ৭১ পয়সা। আর ২০২১ সালে শেয়ার প্রতি লোকসান করেছে ৩১ টাকা ৬৮ পয়সা।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে তথা ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় করেছে ৮ টাকা ৬৬ পয়সা। আগের বছর একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় ছিল ২ টাকা ৪১ পয়সা। গত দুই বছরের আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, কোম্পানিটি অর্থবছরের শেষ দুই প্রান্তিকে অর্থাৎ তৃতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিকে লোকসান করেছে। ৩০ জুন, ২০২১ অর্থবছরের জন্য কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ ক্যাংশ ডিভিডেন্ড দিয়েছে।

বর্তমানে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা এবং মোট শেয়ার রয়েছে ৬৬ লাখ। এরমধ্যে সরকারের কাছে রয়েছে ৫২.৯৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৮.৫৫ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৮.৫২ শতাংশ শেয়ার। সর্বশেষ কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৮২৭ টাকায়। সেই হিসাবে এর পিই রেশিও দাঁড়িয়েছে ৪৭.৭৫ পয়েন্টে।

ট্রেডার বাংলাদেশ, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here