‘পুঁজিবাজারে ২৪ ঘন্টা লেনদেনে ব্যাংকিং সময় বাধা হবে না’

0
197

পুঁজিবাজারকে আরও আধুনিক করতে পারলে ২৪ ঘন্টা শেয়ারবাজারে লেনদেনে ব্যাংকিং সময় কোন বাধা হবে না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, শেয়ারবাজার যদি তার প্রাথমিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে চায় সেক্ষেত্রে ডিজিটালাইজেশনের বিকল্প কিছু নেই।

বুধবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) শাকিল রিজভী স্টক লিমিটেড এবং ইউনাইটেড ফিনান্সিয়াল ট্রেডিং কোঃ লিমিটেডকে ফিক্স সার্টিফিকেশন প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. শামসুদ্দিন আহমদ বলেন, ডিজিটালাইজেশনের বিষয়টি প্রথম থেকেই আমরা গুরুত্ব দিয়ে আসছি৷ ‘ফিক্স সার্টিফিকেশন’ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অর্ডার ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ওএমএস) এর সাথে মিলিয়ে কাজ করবে। এই বিষয় অবশ্যই অনেক বড় প্রাপ্তি।

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই শেয়ারবাজারে সপ্তাহের ৭ দিনই ২৪ ঘন্টা লেনদেন হবে। বর্তমানে ব্যাংকিং লেনদেনের সময়ের উপর বাজারের লেনদেনের সময় নির্ভর করে। সেক্ষেত্রে আমাদেরকে ব্যাংকিং কার্যক্রম শেষ হবার আরো আগে লেনদেন শেষ করতে হয়। যদি আমরা শেয়ারবাজারকে আরও আধুনিক করতে পারি, তাহলে আমরা ২৪ ঘন্টা লেনদেন করতে পারব। এক্ষেত্রে ব্যাংকিং সময় কোন বিষয়ে হবে না। সেই সঙ্গে শুধু দেশে নয়, দেশের বাহিরে বসে লেনদেন করা যাবে। এরই ধারাবাহিকতায় ইতোমধ্যে অনলাইন ও ডিজিটালি বিও অ্যাকাউন্ট খোলা এবং দেশের বিভিন্ন জেলা, প্রান্তিক পর্যায়ে ও বিদেশে ডিজিটাল বুথ খোলার উদ্যোগ নিয়েছি। এখন পর্যন্ত বেশ কিছু ডিজিটাল বুথ কার্যক্রম শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজারে শুধু আধুনিকায়ন করলেই হবে না, সেই সাথে লেনদেনও বাড়াতে হবে। কারণ লেনদেন বাড়ালে স্টক এক্সচেঞ্জের শেয়ারহোল্ডারদের ভালো লভ্যাংশ দেয়া যাবে এবং জিডিপিতে অবদান এর পরিমাণ বেড়ে যাবে। বর্তমানে আমাদের শেয়ারবাজারে জিডিপিতে অবদান মাত্র ১৮ শতাংশ সেটাকে অন্যান্য দেশের মতো বাড়াতে হবে। ইতোমধ্যে শেয়ারবাজারের উন্নয়নে এডিবি ও বিশ্ব ব্যাংকের বেশ কিছু প্রকল্প হাতে রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিএসই’র চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুসুর রহমান বলেন, আজকের অনুষ্ঠানটি ডিএসই’র জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিগত খাতে ডিএসই আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। ইতিপূর্বে ২ টি কোম্পানি এই সার্টিফিকেশন পেয়েছে। আজ আরও ২টি পেল এবং আগামীতে আরও অনেক কোম্পানি এই সার্টিফিকেশন পাবে। ২০০৯ সাল থেকে ব্যাপকভাবে ডিজিটাল বাংলাদেশের কথা বলা হয়েছে। তখন অনেকে এটি বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন৷ অনেকে মনে করতেন দেশের একটি বড় অংশ এ সুবিধার আওতার বাহিরে থাকবে। কিন্ত এখন প্রায় সকলেই ডিজিটালাইজেশনের সুবিধা পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিগত এক বছরে অনেক উন্নতি সাধিত হয়েছে। আমাদের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন বেড়েছে, যা নিঃসন্দেহে উন্নয়নের নির্দেশক। কিন্তু সার্বিক পুঁজিবাজার নিয়ে গর্ব করার মত উচ্চতায় পৌঁছতে আরও সময় লাগবে। এখন পর্যন্ত মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন জিডিপির ২০% নীচে, ভারতে ৯০%। পাকিস্তান সব সূচকেই আমাদের চেয়ে পিছিয়ে। তবে তারা ইমার্জিং মার্কেটে আছে আর আমরা ফ্রন্টিয়ার মার্কেটে আছি, তাই আমাদের অনেক দূর এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের রেগুলেটর ও যারা স্টেকহোল্ডার আছেন তাদের সহযোগিতা এবং ডিএসই’র প্রচেষ্টা সব মিলিয়ে অচিরেই বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে ফ্রন্টিয়ার থেকে ইমার্জিং মার্কেটের দিকে নিয়ে যাবার দৃঢ় প্রত্যয় তিনি ব্যক্ত করেন।

ডিএসই’র ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. সাইফুর রহমান মজুমদার, বলেন দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর আজকে আমরা ট্রান্সফরমেশনের এই উল্লেখযোগ্য ধাপ পার হতে যাচ্ছি। এটা আমাদের পুঁজিবাজার এবং ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ন একটি ঘটনা। বাস্তবতা হলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে আমরা সেন্ট্রাল ওএমএস এর জন্য কোটেশনও কিন্তু কালেক্ট করতে পারিনি। যার কারণে আমাদের জন্য এই ট্রান্সফরমেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই সার্টিফিকেশনের মাধ্যমে আগের দুটি ব্রোকারেজ হাউজ তাদের নিজস্ব ওএমএস দিয়ে কার্যক্রম শুরু করেছে। আজকে আরো দুটি কোম্পানি গো-লাইভ কার্যক্রম শুরু করবে। যেদিন আমরা একসঙ্গে ১০-১৫টি কোম্পানিকে এর আওতায় নিয়ে আসতে পারব, সেদিনই আমাদের এই উদ্যোগ সফলতা লাভ করবে।

ট্রেডার বাংলাদেশ, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here