এসএমই মার্কেটে বড় উত্থান

0
204

কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর হওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন জটিলতা সমাধানের পর থেকে টানা উত্থানে ছিল তুলনামূলক কম দরে অবস্থান করা এসএমই মার্কেটের কোম্পানিগুলোর শেয়ার। তবে রবিবার (০৩ এপ্রিল) এই বাজারে সামান্য দর সংশোধন বা কারেকশন হয়। যা কাটিয়ে সোমবার (০৪ এপ্রিল) এসএমই মার্কেটের বড় উত্থান হয়েছে। এদিন এসএমই মার্কেটের প্রায় সব শেয়ার হল্টেড হয়ে পড়ে বা সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমাতেও কোন বিক্রেতা ছিল না।

গত ২৮ মার্চ বিকালে ডিএসইর ঘোষণা দেওয়ার আগ পর্যন্ত শেয়ারবাজারে এসএমইতে লেনদেন করার যোগ্য হওয়ার জন্য কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর হতে ডিএসইর ইএসএস ওয়েবসাইটে প্রদত্ত অনলাইন ফর্ম পূরণ করে, তা ডিএসইতে মেইল করতে হতো। এরপরে ডিএসই তা যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দিত। এরপরে একজন বিনিয়োগকারী ওই বাজারে লেনদেন করতে পারতেন। তবে এখন থেকে বিনিয়োগকারীদেরকে রেজিস্ট্রশন করা লাগবে না। পোর্টফোলিওতে ২০ লাখ টাকার বিনিয়োগ (ক্রয় মূল্য বা বাজার দরের সর্বোচ্চটা বিবেচ্য) থাকলেই ডিএসই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেজিস্ট্রেশন করে দেবে।

ডিএসইর এই ঘোষণার পরে মঙ্গলবার (২৯ মার্চ) এসএমই মার্কেটের মূল্যসূচক বাড়ে ৮২ পয়েন্ট বা ১০ শতাংশ। এতে করে আগের দিনের ৮০৬ পয়েন্টের সূচকটি ৮৮৮ পয়েন্টে উঠে আসে। যে সূচকটি বুধবার ৬২ পয়েন্ট বা ৭ শতাংশ ও বৃহস্পতিবার ১৮৬ পয়েন্ট বা ১৯.৫৮ শতাংশ বেড়ে ১১৩৫.৫৯ পয়েন্টে উঠে আসে। এরপরে রবিবার ২ পয়েন্টের সংশোধন হয়। এই সংশোধনের পরে সোমবার এসএমই মার্কেটের সূচক বেড়েছে ১৯৬ পয়েন্ট বা ১৭.৩৩%। এর মাধ্যমে সূচকটি ১৩৩০ পয়েন্টে উঠে এসেছে।

এদিকে গত মঙ্গলবারের ৫ কোটি ২১ লাখ টাকার লেনদেন বেড়ে বুধবার ৬ কোটি ৯ লাখ টাকার ও বৃহস্পতিবার ১২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার হয়। যা দর সংশোধনের দিন ৬ কোটি ৭৫ লাখে নামে। তবে সোমবার বড় উত্থানের দিনে আগের সব রেকর্ডকে ছাপিয়ে ১৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে।

এই বড় উত্থানের পেছনে একমাত্র কারন হিসাবে রয়েছে এসএমই মার্কেটে লেনদেন হওয়া সবগুলো শেয়ারের দর বৃদ্ধি। এদিন এসএমই মার্কেটের জন্য নির্ধারিত সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ ২০% এর মধ্যে নিয়ালকো অ্যালয়েজের ১৯.৭৭% দর বেড়েছে। এছাড়া কৃষিবিদ ফিডের ১৯.৮৬%, ওরিজা অ্যাগ্রোর ১৯.৭৫%, মামুন অ্যাগ্রোর ১৯.৭১%, এপেক্স ওয়েভিংয়ের ১৯.৫৭%, মোস্তফা মেটালের ১৯.৫৩%, মাস্টার ফিড অ্যাগ্রোর ১৯.৪৪%, ওয়ান্ডারল্যান্ড টয়েজের ১৭.৬৫% ও বেঙ্গল বিস্কুটের ১২.৯০% দর বেড়েছে। বাকি হিমাদ্রির শেয়ারে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমায় কেনার জন্য ক্রেতা থাকলেও বিক্রেতা না থাকায় দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

এর আগে কয়েক দফায় এসএমইতে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহন বাড়ানোর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো উদ্যোগ নিলেও তা খুব একটা ফলোদায়ক হয়নি। এক্ষেত্রে অন্যতম একটি বাধা ছিল রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া। কারন শুধু বিনিয়োগকারী না, অধিকাংশ ব্রোকারেজ হাউজ কর্তৃপক্ষই এ রেজিস্ট্রেশনের বিষয়ে অবহিত না। এছাড়া এসএমই মার্কেটে মূল মার্কেটের মতো লেনদেন করা গেলেও অনেকে তা জানেন না। একটি বিও হিসাব দিয়েই যে মূল মার্কেট এবং এসএমইতে লেনদেন করা যায়, সেটাও অনেকেই জানেন না। এটা জানানোর জন্যও কেউ এগিয়ে আসেনি। এছাড়া এই খাতটি নতুন হলেও শেয়ারবাজারে রেগুলেটর থেকে শুরু করে সবার মধ্যেই প্রচারণাও অভাব রয়েছে।

যে কারনে এসএমইতে আসা কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এখনো ১০ টাকার কাছেই অবস্থান করছিল। যে কোম্পানিগুলোর আগামি ৩ বছর কমপক্ষে ১০ শতাংশ করে নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অথচ একই কোম্পানিগুলো যদি মূল মার্কেটে লেনদেন শুরু হতো, তাহলে অভিহিত মূল্যের কয়েকগুণ দরে লেনদেন হতো।

ট্রেডার বাংলাদেশ, ০৪ এপ্রিল, ২০২২

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here